তমলুক মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ সোয়াদিঘী খালের রামতারক সংলগ্ন মহাশ্বেতায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর যে কয়েকটি দোকান বসে গিয়েছিল,সেই দোকানের মালিকরা ইতিমধ্যে কাঠামো পরিষ্কার করে নুতন করে কাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ সকালে স্টেশনারী দোকানদার সেখ শাহাজাহান ও সোনার দোকানদার বিকাশ মান্না নামে দুজন দোকানদার খালের দিকে যতটা দখল করে পূর্বে কাঠামো করেছিল ,তার থেকেও বেশি অংশ দখল করে অবৈধ নির্মাণ করবার জন্য কংক্রিটের স্ট্রাকচার বানানো শুরু করে। বাপি মাইতি নামে আরেকজন বাসন দোকানদার সে পূর্বের দখলিকৃত স্ট্রাকচারের মধ্যেই কংক্রিটের নির্মাণ করছিল।
ওই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে জেলা শাসক,মহকুমা শাসক,ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সহ সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার,এস ডি ও (ইরিগেশন)কে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এবং অবিলম্বে বিষয়টিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়। ফলস্বরূপ সেচ দপ্তরের তমলুক সেকশনাল অফিসের পক্ষ থেকে অবৈধ নির্মাণকারীদের অবিলম্বে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেখ শাজাহান ও বিকাশ মান্না আপাতত: নির্মাণকার্য বন্ধ করলেও বাপি মাইতি এখনো নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সোয়াদিঘী খাল সংস্কার সমিতির উপদেষ্টা তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করে বলেন, মহকুমার এই গুরুত্বপূর্ণ খাল দিয়ে পাঁশকুড়া-কোলাঘাট-শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের প্রায় শতাধিক মৌজার বর্ষার জল নিকাশী হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়,কংসাবতী নদী বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে বন্যার জলও এই খাল দিয়েই রূপনারায়ণে বের হয়। দীর্ঘদিন মজে থাকার পর এলাকার বাসিন্দাদের লাগাতর আন্দোলনের চাপে সেচ দপ্তর গত ২০২৫ সাল থেকে খাল সংস্কারে হাত দিয়েছে। নো কষ্ট পদ্ধতিতে খাল সংস্কার হওয়ায় এখনো অর্ধেক অংশ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হয়নি। এই অবস্থায় গত কয়েকদিন আগের ভূমিকম্পে খাল সংলগ্ন ২০-২৫ টি দোকান সোজাসুজি বসে যায়। ওই ঘটনার একমাস যেতে না যেতেই ওই অবৈধ নির্মাণকারীরা পুনরায় পূর্বেকার দখলের থেকেও বেশি অংশ দখল করে আজ আবার অবৈধ কংক্রিট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
আমরা চাই-অবিলম্বে ওই নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাতে সরকারী জায়গায় ওই ব্যক্তি সহ আর কেউ যাতে না নির্মাণ কার্য করতে পারে, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিক দপ্তর।





