আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে কাঁথিতে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব মেদিনীপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক অশোকতরু প্রধান।
তিনি বলেন ” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মালিক শ্রেণীর সেবাদাস, সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী বিজেপি এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত জনবিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করে শ্রমিক- কৃষক সাধারণ মানুষের বাঁচার লড়াইকে শক্তিশালী করতে এসইউসিআই (সি) দল পশ্চিমবঙ্গে একক শক্তিতে ২৩০ টি আসনে সংগ্রামী বামপন্থী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমস্ত আসনে এস ইউ সি আই(সি) দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
আজকে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কাঁথি, উত্তর কাঁথি, এগরা, রামনগর, পটাশপুর, ভগবানপুর ও খেজুরী বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী গণ আন্দোলনের বিশ্বস্ত সাথী, শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক রফিকুল ইসলাম। রামনগর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিক্ষা ও বিদ্যুৎ আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক ও গণ আন্দোলনের সাথী নারায়ন বর্মন। পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিক্ষা এবং শিক্ষক আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক এবং কেলেঘাই – বাগুই নদীর বন্যা প্রতিরোধ আন্দোলনের ও বারচৌকা বেসিন সংস্কার আন্দোলনের নেতা সূর্যেন্দু বিকাশ পাত্র। এগরা বিধানসভায় প্রার্থী বিদ্যুৎ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও গণ আন্দোলনের বিশ্বস্ত সাথী সনাতন গিরি। খেজুরী বিধানসভায় প্রার্থী শিক্ষা আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক ও গণ আন্দোলনের সাথী পবিত্র মন্ডল। উত্তর কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৃষক আন্দোলনের নেতা ও গণ আন্দোলনের পরীক্ষিত সৈনিক সুভাষ চন্দ্র পড়্যা। ভগবানপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাত্র। অশোক বাবু বলেন আপনারা জানেন আমাদের দল এসইউসিআই(সি) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলছে। এই আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করতে এবং বিধানসভায় গণ আন্দোলনের প্রকৃত কণ্ঠস্বরকে পৌঁছে দিতে, সংগ্রামী বামপন্থার মর্যাদা রক্ষা করতে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এই নির্বাচনী সংগ্রামে যে যে দাবিগুলি আমরা প্রচারে তুলে ধরা হয়েছে
১। এস আই আর এর নামে চরম হয়রানি, ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া চক্রান্ত চলবে না। বিচারাধীন সমস্ত ভোটারকে বৈধ ভোটারের স্বীকৃতি দিতে হবে।
২। পেট্রোল -ডিজেল -রান্নার গ্যাস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে হবে।
৩। ৮২০৭ টি সরকারি স্কুল বন্ধের চক্রান্ত বন্ধ করে, স্কুল গুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন করে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে।
৪।সমস্ত শূন্যপদে দুর্নীতিমুক্তভাবে নিয়োগ করতে হবে।
৫।স্মার্ট মিটার বাতিল সহ বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে হবে।
৬।অভয়ার ন্যায় বিচার সহ নারী নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নারী নির্যাতন বন্ধে সমস্ত রকম মদ-মাদক দ্রব্যের ব্যবসা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৭। চাষির ফসলের ন্যায্য দাম সরকারকে দিতে হবে। সার -বীজ- কীটনাশকের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করতে হবে।
৮। শ্রমিকের অধিকার হরণকারী শ্রম কোড বাতিল করতে হবে। নতুন শ্রম নিবিড় শিল্প স্থাপন করতে হবে। বন্ধ কলকারখানা খুলে ছাঁটাই শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল করতে হবে।
৯। আশা -আইসিডিএস -মিড ডে মিল কর্মীদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি দিতে হবে।
১০। মোটর ভ্যান চালকদের উপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে।
এছাড়া কাঁথি এগরা মহকুমার বিভিন্ন বিধানসভা ক্ষেত্রের যে বিশেষ দাবি গুলি এই নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরা হয়েছে
১। কেলেঘাই ও বাগুই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বারচৌকা ও দুবদা বেসিনের পূর্নাঙ্গ সংস্কার, পুঁটিমারী খাল সংস্কার করতে হবে।
২।কাঁথিতে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
৩। তমলুক – দীঘা রেলের ডবল লাইন করতে হবে।
৪। জুনপুটে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও হরিপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
৫। জুনপুট ও শঙ্করপুরে মৎস্য প্রক্রিয়া করণ শিল্প স্থাপন ও পর্যটন কেন্দ্র করতে হবে।
৬। কৃষির উন্নতির জন্য জল নিকাশির সংস্কার করতে হবে।
৭। মহাকুমা হাসপাতাল সহ গ্রামীণ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলির পরিকাঠামো মানের উন্নয়ন করতে হবে।
৮। কাজু শিল্পের সংকট মোচনে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এবং কাজু শ্রমিকদের অসংগঠিত শ্রমিকের মর্যাদা,বীমা ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।
৯।নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত হাইওয়েতে ঘটতে থাকা প্রাত্যহিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বন্ধের জন্য প্রশাসনকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে উল্লেখিত বিধানসভা কেন্দ্র গুলির সমস্ত ভোটারদের কাছে আবেদন জানাবন।, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গণআন্দোলনের বিশ্বস্ত সাথী, সংগ্রামী বামপন্থী প্রার্থী হিসাবে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান।




