কৌশিকী বসু ‘:-“ওই কাল সকালে আসছি,উঠিস কিন্তু,গিয়ে ঘুম থেকে যেনো না তুলতে হয় “
” বোনি!কাল একটু বেলায় আসিস প্লিজ”
“না কাল সকালেই যাবো,গিয়ে যেনো দেখি তুই জেগে আছিস,আমার বিয়ের এক বছর হলো না,তোর কথা শুনে চলতে হবে বুঝি!!””অবশ্যই,তোর দাভাই বলে কথা”
ফোনটা রেখে একটু জোরেই ননি বলে ” মা কাল বোনি আসছে,বলছি জিনিসগুলো কোথায় রেখেছো?”
মা ” আরে তুই যা সব রেডি আছে।”
পরদিন,
ডোরবেলটা বেজে ওঠে,দরজা খুলতেই নীতু হাসি মুখে প্রশ্ন করে “জেম্মা কেমন আছো?” বলে জড়িয়ে ধরে।ভিতরে আসতে আসতেই জিজ্ঞাসা করে “তিনি এখনও ঘুমাচ্ছেন?কাল কতো করে বললাম জানো!,”
ননী “বাড়িতে ঢুকলো তো শুরু,তুই আর্ বদলালি না!আমি একা পড়ে পড়ে ঘুমাই আর্ নিজে যে রোজ রোজ সারারাত কাজ করার জন্যে জেগে সারাদিন ঘুমাস তার বেলা!”
জেম্মা ” আরে হয়েছে রে,নে শুরু কর, তা নীতু ও বাড়ির সবার সাথে কেমন আছিস?”
নীতু রাখি বাঁধতে বাঁধতে উত্তর দেয়,” ওরা খুবই ভালো আমাকে বাড়ির কথা মনে করতেই দেয় না।মন খারাপ তো নয়ই।”
হাতে রাখি বেধে দিয়ে একটা সুন্দর নতুন স্মার্ট ফোন ধরিয়ে বলে “আমার গিফ্ট?”
ননী একটা সুন্দর রাখি তার বোনের হাতে বেধে দেয় “তোর যেদিন বিয়ে হয়ে গেলো,তার পর থেকে তোকে খুব মিস করতাম,তোর আর্ আমার ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প,পিছনে লাগা তারপর তোর মনে আছে মিসকা কে প্রপোজ করার পর ও আমাকে ঐভাবে অপমান করছিল বলে তোর লড়াই টা?আর্ সেই রাত্রি বেলা কেনো সিঙ্গেল!! সেই নিয়ে দুঃখ পাওয়া,তারপর নিজের সেভিংস থেকে আমার পছন্দের ব্র্যান্ডের ম্যাকবুক কিনে দেওয়া।তারপর আমি ভালোবাসি বলে নিজে রাজভোগ কিনে আনতিস,কিন্তু মুখে কিছু বলতিস না,কেউ কখনো জানতেই পারে নি রাজভোগ তোর ও প্রিয়।তুই কেমন একলা করে দিয়ে চলে গেছিস,জানি ঋষভ দা তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে,তোর অনেক যত্ন নেয়। হয়তো তোকে এসব মনে করতেও দেয় না,কিন্তু আমি? তারপর আমাদের সেই গল্প করার ব্যালকনি টা আজও দাড়িয়ে থাকে অপেক্ষা করে তোর জন্যে ,হয়তো একটা অসম্ভবের উদ্দেশ্যে!”
দাভাই র চোখে জল দেখে নীতু একটু কড়া গলাতেই জেম্মাকে বলে “বাবা আমার দাভাই ,আমার বিয়ের পর এতটা সেন্টু হবে বুঝলে তো আগেই বিয়ে করতাম।এসবে ভুলছি না।। আমার গিফ্ট??”
ননী একটা প্লেট নিয়ে আসে,তার ঢাকনা সরায়, প্লেটে সাজানো রয়েছে রাজভোগ,ননী একটা তুলে বোনকে খাইয়ে দেয়,অর্ধেকের একটু কম খেয়ে ,
নীতু “জেম্মা কোন দোকান গো?এতটা সুন্দর?”
জেম্মা ” তোর দাভাই বানিয়েছে কাল রাত জেগে!তোর প্রিয় মিষ্টি তো!”
ননী “এই এদিকে আয়,আয় না” একরকম জোর করে নীতুকে নিয়ে জানলার কাছে যায় ননী,বলে “ওই যে নীচে দাড়িয়ে আছে ওই বুলেট টা তোর।তোর লাদাখ যাবার জন্যে এটা কেনার ড্রিম ছিলো তো!আমার দ্বিতীয় মাসের মাইনে থেকে তোকে কিনে দিলাম,তোর রাখীর গিফ্ট।কীরে পছন্দ হয়েছে?”
নীতু র চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে,একটা অপ্রত্যাশিত কিছু পাওয়ার আনন্দ মেশানো হাসি মুখটা দেখে ননী নিজেও কেঁদে ফেলে।
বছর সাতেক আগে যখন প্রথম ননী রা এই পাড়ায় ওদের বাড়ির পাশের বাড়িতে আসে,তখন তো কেউই কাউকে চিনত না,তারপর কোচিং এর টিচারের কাছে পড়তে যেতে আসতে আলাপ,একই ক্লাস ছিলো, ধীরে ধীরে আরও একটা বছর পর ওরা হলো বেস্ট ফ্রেন্ড তারপর ননী চ্যাটে ওকে বনি বললে ওকে একদিন নিজেই নীতু নাম দেয় ‘ দাভাই ‘ ,নীতু ই কয়েক মাসের ছোটো।তারপর সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে গল্প,আড্ডা,কখনো ফোনের চ্যাটে কথোপকথনের মাধ্যমে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও এরা হয়ে উঠেছিল একে অপরের রক্ষা কবচ।
সমাজের সবাই এই সুন্দর দাদা – বোনের সম্পর্কটা কে সন্দেহের চোখে দেখলেও, নীতুর শশুরবাড়ি কিন্তু ঠিক চোখেই দেখেছে ওদের সম্পর্কটাকে।হাজার রকম গুঞ্জন কান পাতলেই শোনা গেছে মাঝে মধ্যে ওরা নাকি দাদা বোনের মোড়কে একে অপরের সাথে অন্য সম্পর্কে লিপ্ত । সেসব না কখনো ওরা গায়ে মেখেছে আর্ না মাখবার প্রয়োজন পড়েছে।এখন অবশ্য তারাই ওই বাড়ি কিম্বা সম্পত্তির ভাগ নিয়ে টানা পোড়েন চলা কয়েকজন রক্তের সম্পর্কের দাদা বোনদের অনেককে ওদেরই উদাহরণ দিয়ে বেড়ায়।
ভাগ্যিস সেদিন নীতু – ননি এসবে কান দেয় নি।
সৌজন্যে – প্রতিলিপি






