খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে গতকাল সোমবার দোষী সাব্যস্ত করার পর মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করলেন কাঁথি আদালতের ফাস্ট ট্রাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক নুরুজ্জামান আলী। অভিযুক্ত কাঁথি ৩ ব্লকের মারিশদা থানার ধান্দালিবাড় গ্রামের বাসিন্দা কানাই বারিক ওরফে কানু কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমান করলেন বিচারক। ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪৫৯ ধারায় পাঁচ বছর সংশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০০ টাকা জরিমান। জরিমানা অনাদায় অতিরিক্ত দু’বছর জেল। ৩০২ ধারার মতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমান। জরিমানা অনাদায় অতিরিক্ত পাঁচ বছর কারাদণ্ড।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন পুরানো বিবাদের জেরে গত ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর কানাই বারিক উত্তেজিত হয়ে শাবল নিয়ে প্রতিবেশী তাপস রায় কে আক্রমণ করতে তার বাড়িতে চড়াও হয়। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে তাপসের বাবা সুরেশ রায় তাকে বাধা দেয়। সেই সুযোগে প্রাণভয়ে তাপস বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাপস পালিয়ে গেলে শাবলের আঘাত করে সুরেশ রায়কে গুরুতর জখম করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকেরা ও প্রতিবেশীগণ সুরেশ রায় কে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসা। তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসা চলাকালীন ১৪ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। তাপস ও তার পরিবারের লোকেরা মারিশদা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে কানাই বারিক পালিয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকে। সেই কারণে এই মামলা মাঝপথে থেমে যায়। পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত চালিয়ে ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর কানাই বারিক গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত এই থেকে জেলবন্দি অবস্থায় আছে।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন এই মামলায় দশজনের সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণের পর কাঁথি আদালতের ফাস্ট ট্রাক সেকেন্ড কোটের বিচারক নুরুজ্জামান আলী পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারের পর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সোমবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার পর মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করলেন। এই রায়ের পর এই মামলার অভিযোগকারী সুরেশ রায়ের পরিবার খুশি বলে জানা গেছে।
সরকারি আইনজীবী ইকবাল হোসেন বলেন এ ধরনের রায় সমাজের অপকর্মকারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করবে। কাঁথি আদালতের অ্যাডিশনাল পিপি মনজুর রহমান খান জানিয়েছেন খুনিদের এই ধরনের সাজা সমাজের পক্ষে মঙ্গল জনক। এর ফলে সমাজে অপরাধমূলক কাজের সংখ্যা কমবে। এই ধরনের অপরাধীরা নিশংস ঘটনা ঘটানোর আগে ঘটনার পর কি হতে পারে তা ভাববে।





