Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

।। জামাই ষষ্ঠী ।।

তুষার চট্টোপাধ্যায় :- লকডাউনের মধ্যেই বউকে আর ছেলেকে নিয়ে জামাইষষ্ঠী করতে এসেছি। শ্বশুরবাড়ি পাশের পাড়াতে। হাঁটতে হাঁটতেই এলাম।

বাড়িতে ঢুকেই ছেলে উঠে দোতালায় যেতে গেল, দাদুর সঙ্গে দেখা করতে। ওর মা ধরে বাথরুমে নিয়ে গেল, “আগে ভাল করে হাত-পা ধোও। জামা কাপড় ছাড়।”

বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ছেলেকে হাত-পা ধুইয়ে দিয়ে জামা কাপড় ছাড়িয়ে, ওর মা বাইরে নিয়ে আসতেই, আমি ছেলের হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে দিলাম। বললাম, “একদম তাড়াহুড়ো করবে না। আস্তে আস্তে উপরে যাবে।”

শাশুড়ি মা বললেন, “বাবা উপরে যাও। দাদু তোমার সঙ্গে দেখা করবে বলে সকাল থেকেই খুব ছটফট করছে।”

হঠাৎই দেখি শ্বশুরমশাই সিঁড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে নেমে আসছেন। সিঁড়ি থেকেই হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “দাদু তুমি এসেছ। তুমি ভাল করে পড়াশোনা করবে। আলমারিতে আমি টাকা রেখে দিয়েছি। সামনের মাসে তোমার জন্মদিনে বাবাকে বলবে, ওই টাকা দিয়ে তোমাকে একটা ভালো জামা প্যান্ট কিনে দিতে। তুমি বলেছিলে একটা ক্যারামবোর্ড কিনে দিতে, তার টাকাও আমি আলমারিতে রেখে দিয়েছি।”

আমি উঠে গিয়ে বললাম, “আপনি আর নামবেন না।” আস্তে আস্তে ওঁর পিছন পিছন উপরে উঠে গেলাম। উনি বাথরুমের দিকে গেলেন।

আমি ওঁর ঘরের সামনে দাঁড়াতেই খাটের দিকে চোখ পড়ল। দেখি শ্বশুরমশাই বিছানায় শুয়ে আছেন। ভয়ে শরীর থেকে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল মনে হল। আস্তে আস্তে খাটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শ্বশুরমশাইয়ের আধবোজা চোখ দুটো দেখে বুঝতে পারলাম, উনি আর নেই।

বিষয়টা সঠিকভাবে বোঝার জন্য নাকের সামনে হাত দিয়ে দেখলাম, নিশ্বাস পড়ছে কিনা! না, নিশ্বাস পড়ছে না! হাতটা তুলে পালসটা দেখলাম।

তারপর ছুটে বাথরুমের দিকে গেলাম। বাথরুমের দরজা ভেজানো। ধাক্কা মেরে দরজাটা খুলতেই দেখলাম, ভেতরে কেউ নেই! প্রচণ্ড চিৎকার করে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলাম। প্রচন্ড দ্রুত এক তলায় এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলাম।

Related News

Also Read