Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

#হ্যালো_90’s

1998 সাল, রাইস এ পড়ার শেষ কয়েকদিন। আমি আর সন্দীপ ট্রেনে করে ফিরতাম একসাথে, বেলঘড়িয়া থেকে দমদম। প্রসঙ্গত বলে রাখি, তখন বেলঘড়িয়া থেকে দমদমে ফেরার সময় ট্রেনের বাঁ দিকের দরজায় দাঁড়ালে বোঝা যেত যে সাইডের পোস্ট গুলো কত কাছে। প্রায় দরজা ঘেঁষে, শরীরের কোন অংশ বাইরে বেড়িয়ে থাকলেই, কিম্বা একটু এদিক ওদিক হলেই পোস্টে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু। সেদিনও ফিরছি, তখন প্রায় বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে। বাঁদিকের দরজায় দাঁড়িয়ে আমি আর সন্দীপ। হঠাৎ দেখি একজন লাইনের ধারে পড়ে আছে , মাথা থেঁতলে গেছে, হাতপা নড়ছে। আমি দরজা থেকে মাথা বার করে দেখতেও পারছিনা। তবুও চলন্ত ট্রেনের থেকে দরজা ঘেঁষে মুখ বাড়িয়ে সিওর হলাম। ব্যাস, মাথায় সেই পরোপকারী পোকা চুলকে দিল। টানলাম চেইন, গাড়ি দাঁড়াতেই লাফিয়ে নেমে দৌড়ালাম ঘটনাস্থলের দিকে। বেঁচে ছিল লোকটা। উপকারের লোকও জুটে গেছিল। ট্রেন চালক হম্বিতম্বি করতে গিয়েও থমকে গিয়ে সবাইকে ট্রেনে উঠতে বলে হর্ণ বাজিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিলেন। তার আগে বলে দিয়েছিলেন দমদমে না নামতে। অপেক্ষা করতে হলেও আমাদের শিয়ালদহে যেতেই হত। কারণ হসপিটাল কোথায় NRS ছাড়া? সবাই মিলে নিয়ে গেলাম সেখানে। বন্ধুরা, ভাবছেন, আমি কি পুন্য কর্ম করেছি? হায়, মানুষটা বাঁচেনি। উনি বাঁচলে হয়ত গর্ব হত। কিন্তু, উনি প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে পড়েছিলেন ওখানে। আশেপাশের মানুষরা দেখলেও অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আচ্ছা, প্রশ্ন একটাই, সেই দেড় ঘন্টায় আরো প্রায় দশখানা ট্রেন গেছিল ওই ট্র্যাকে। আমার মত কেউ দাঁড়ালো না? তাহলে হয়ত মানুষটা বাঁচত। এখনো ভাবি, কি ছিলাম আমি। এখন কি হয়েছি!

সৌজন্যে – প্রতিলিপি

Related News

Also Read