প্রতাপ মণ্ডল :- মদ খেয়ে টং হয়েছে গিরিশ। এমন মাতাল যে রাতের ওরাও কেউ দরজা খুলে দিতে নারাজ।
হঠাৎ কি হল, দক্ষিণেশ্বরের কথা মনে পড়ে গেল আচমকা। একটা ঘোড়ার গাড়ি ডাকিয়ে নিয়ে উঠে বসলো । চলো দক্ষিণেশ্বর। সেখানে এমন একজন আছেন যিনি দরজা কখনো বন্ধ করেন না।
রাত নিশুতি। মন্দিরের ফটক কখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে । সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে এতক্ষণে। তা হোক তবু কোথাও যদি জায়গা থাকে, সে দক্ষিণেশ্বরে। কলকাতার উত্তরে, কিন্তু আসলে দক্ষিণ।
যা ভেবেছিল। ফটক বন্ধ। চার পাশ অন্ধকার। নিষ্পন্দ।
কিন্তু যিনি ঘুমোন না, আর্তজনের অন্ধজনের কান্না শোনবার জন্য উৎকীর্ণ হয়ে আছেন তাকে ডাকতে দোষ কি?
” ঠাকুর! ঠাকুর! “- চিৎকার করে ডাকতে লাগলো গিরিশ।
কে গিরিশ না? সেই নেটো নেচো গিরিশ! নির্জন নিঃসহায় অন্ধকারে আমাকে ডাকছে কাতর প্রাণে। আমি কি থাকতে পারি স্থির হয়ে ?
বাইরে বেরিয়ে এলেন ঠাকুর ।
ফটক খোলালেন। মাতাল গিরিশের হাত ধরলেন আনন্দে। মদ খেয়েছিস তো কি, আমিও মদ খেয়েছি। সুরাপান করি না রে, সুধা খাই রে কুতূহলে। আমার মন মাতালে মাতাল করে, মদ মাতালে মাতাল বলে। হাত ধরে হরিনাম করতে করতে নাচতে লাগলেন ঠাকুর।
সূত্রঃ পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ।
——অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।।






