Select Language

[gtranslate]
১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ শনিবার ( ২৮শে মার্চ, ২০২৬ )

।। খেজুরী ইওরোপীয় সমাধীক্ষেত্রে স্মৃতিফলক পুনঃস্থাপন ।।

খেজুরী থানার ঐতিহ্যবাহী খেজুরী গ্ৰামটিতে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে একটি ‘ইওরোপীয়ান গ্ৰেভ ইয়ার্ড ‘ গড়ে উঠেছিল।

তবে ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়,খেজুরীতে সর্বপ্রথম ১৬৯৯ খ্রীষ্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর জর্জ গাই নামে নিউ ইংলিশ কোম্পানি’র এক কর্মচারীকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর এমোস ওয়েস্ট নামে কাঁথি পূর্ত বিভাগের এক কর্মীকে সর্বশেষ সমাধিস্থ করা হয়। অর্থাৎ সুদীর্ঘ ১৬৬ বছর ধরে খেজুরীতে অবস্থিত ইওরোপীয় সমাধীক্ষেত্রে ইওরোপীয়ানদের সমাধিস্হ করার কাজটি চলেছিল।


খেজুরীতে বসবাসরত ও আগত এমন তেত্রিশটি সমাধীস্তম্ভের কথা জানা যায় প্রখ্যাত ইতিহাসকার মহেন্দ্রনাথ করণের লেখা ‘ খেজুরী বন্দর ‘ (১৯২৭ ) পুস্তকটি থেকে। কিন্তু ১৮৬৪ খ্রীষ্টাব্দের ৫ অক্টোবরের বিধ্বংসী বন্যা ও ভীষণ ঝড়ে খেজুরী বন্দর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। খেজুরীর বিখ্যাত ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মি. বটেলহো ,পুত্র , পত্নী ও শ্যালিকাসহ সপরিবারে সলিল সমাধি প্রাপ্ত হন।

খেজুরীর এই ঐতিহ্যবাহী সমাধীক্ষেত্রে তিনি সপরিবারে সমাহিত রয়েছেন। এমনতরো আরও ৩২জন ইওরোপীয় নৌবিভাগের কর্মচারী,দাঁড়ি, মাঝি,পোস্ট অফিসের কর্মী, খেজুরী ভ্রমণে আসা পর্যটক, খেজুরী আসবার পথে সমুদ্রে মৃত কোনও কর্মচারীদের খেজুরী সমাধীক্ষেত্রে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

১৮৬৪ পরবর্তী সময়ে খেজুরী বন্দর পরিত্যক্ত হলে খেজুরী ইওরোপীয় সমাধীক্ষেত্রটিও উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে। একে একে সমাধীক্ষেত্রের সবগুলি ফলকই নষ্ট হয়ে যায় অথবা দুষ্কৃতিদের দ্ধারা অপহৃত হয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকল খেজুরীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল সমাধীক্ষেত্রটিকে সরকারীভাবে ‘ হেরিটেজ ‘ ঘোষণা করে উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থা করা হোক।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানান ভাবে সরকারি নানানস্তরে আবেদন জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয় নি। এমতাবস্থায় ২০১৬ খ্রীষ্টাব্দে গড়ে ওঠা ‘ খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে খেজুরী সমাধীক্ষেত্রটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৬ জুলাই,২০২২ দিনাজপুরের জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট এডওয়ার্ড ম্যাক্সওয়েলের পত্নী এমেলিয়া ও ২০ সেপ্টেম্বর,২০২২ জর্জ গাই -এর স্মৃতিফলক পুনঃস্থাপন -এর পরে শনিবার ১২ নভেম্বর,২০২২ ব্রিটেনের মিডিলসেক্স থেকে তৎকালীন ভারতবর্ষের খেজুরীতে আসবার পথে জাহাজে মৃত মিস সারলটি অ্যানির স্মৃতিফলকটি পুনঃস্থাপন করা হলো খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি’র পক্ষে।

এদিন সকালে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় খেজুরীতে অবস্থিত বাজকুল রেঞ্জ অফিসে ও পরে উপস্থিত সকলে নিকটবর্তী খেজুরী ইওরোপীয় সমাধীক্ষেত্রে গিয়ে সমাধীফলক পুনঃস্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মিস সারলটি অ্যানির প্রয়াণের ২০৩তম বর্ষে সমাধীফলকটি পুনঃস্থাপন করেন খেজুরীর প্রাক্তন বিধায়ক ও আয়োজক সংস্থার সভাপতি ড. রামচন্দ্র মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন সহ: সম্পাদক সুমন নারায়ন বাকরা, বনকর্মী গোবর্ধন মন্ডল,বসন্ত দাস, সুভাষচন্দ্র মন্ডল,অমিত মন্ডল , স্মৃতিফলক দাতা কার্তিক বেরা, রাজা দাস প্রমুখ।

উপস্থিত সকলেই খেজুরী ইওরোপীয় সমাধীক্ষেত্রটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের ক্ষেত্রে এমন ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন অন্যতম সহ: সম্পাদক সুদর্শন সেন।

Related News

Also Read