Select Language

[gtranslate]
১০ই চৈত্র, ১৪৩২ মঙ্গলবার ( ২৪শে মার্চ, ২০২৬ )

সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ইমন নাট্যমেলা-২০২৬

 

   কেকা মিত্র

মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের আয়োজনে গত ২০ থেকে ২২ মার্চ মছলন্দপুর পদাতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো ইমন নাট্যমেলা । এই নাট্টোমেলা উদ্বোধন করেন নাবিক নাট্যম এর পরিচালক জীবন অধিকারী, খড়দা থিয়েটার জোন এর নির্দেশক তপন দাস, নাট্য পরিচালক প্রবীর গুহ, নাট্য গবেষক তমাল মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ, কিংশুক রায় , ইমন মাইম সেন্টারের এর কর্ণধার ধীরাজ হাওলাদার সহ আরো অনেক ব্যক্তিবর্গ।তিনদিনের এই নাট্যমেলায় নাটক, মূকাভিনয়, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, ম্যাজিক নিয়ে উপস্থিত ছিল ২০টির বেশি সাংস্কৃতিক সংস্থা। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় নানান সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

উৎসবের প্রথম দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। তিনটি বিভাগে প্রায় ২০০ প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। এদিন সন্ধ্যায় উদ্ধোধনী নাটক হিসাবে ছিল স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এর নাট্য বিভাগ বিনোদিনী নাট্য অঙ্গনের প্রবীর গুহর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ফুলেন্দ্র পণ্ডিতের পরিচালনায় নাটক “হ্যালো ম্যাকবেথ”।

এরপর আগত অতিথিদের বরণ করে নেন ইমনের বন্ধুরা। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন সান্ধকালীন অনুষ্ঠানে ছিল সৃজা হাওলাদারের পরিচালনায় নৃত্যনীড় এবং চন্দনা রায়ের পরিচালনায় ছন্দাবলী নৃত্যগোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান, সোমেন মিত্রের পরিচালনায় সৌরিক আবৃত্তি শিক্ষা কেন্দ্র ও ইমন মাইম সেন্টারের যৌথ আবৃত্তি কোলাজ “আমাকে ভাবায় সুকুমার রায়”, কমল মণ্ডলের নির্দেশনায় শতকমল মাইম সোসাইটির মূকাভিনয়। এছাড়াও মঞ্চস্থ হয় বারাসাত পঞ্চবটী কলাকৃৎ এর স্বাগতম হালদার ও মল্লার কুণ্ডুর নির্দেশনায় ছোটদের নাটক “জানালা”।

এদিনের সর্বশেষ অনুষ্ঠান ছিল মনোজ মিত্র রচিত, জীবন অধিকারী নির্দেশিত মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের নবতম নাট্য প্রযোজনা “হারানো প্রাপ্তি”। সোমা পাল-এর আলো জয়ন্ত সাহা-র আবহ ও সৃজা হাওলাদারের শব্দ প্রক্ষেপণ এবং অনুপ মল্লিক, সীমা মাহেলী, জীবন অধিকারী, ধীরাজ হাওলাদার ও জয়ন্ত সাহার অভিনয়ে নাটকটি দর্শকদের কাছে অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করে। ইমন নাট্যমেলার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২১মার্চ সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা। প্রায় ২৫০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে এই দুটি প্রতিযোগিতায়।

“শিশু মনস্তত্ত্ব ও থিয়েটার” বিষয়ে একটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয় এদিন। এদিনের সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠানে ছিল অশোকনগর বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা কমিটির অনুপা ঘোষের পরিচালনায় সঙ্গীত আলেখ্য “স্বাধীনতা আন্দোলনে বাসন্তী দেবী”, শাশ্বতী দাস এর পরিচালনায় পুষ্পপুট, কুন্তল বিশ্বাসের পরিচালনায় গুরু আশ্রয় দিপালী ড্যান্স সেন্টার ও সঞ্চিতা মুখার্জী সেন এর পরিচালনায় নৃত্যালোক এর নৃত্যানুষ্ঠান, মুকুল দেব নির্দেশিত ও অভিনীত মুক একাডেমীর মূকাভিনয়। এদিন মঞ্চস্থ হয় গোবরডাঙা নাবিক নাট্যম-এর জীবন অধিকারী নির্দেশিত শিশু-কিশোর নাট্য প্রযোজনা “দলছুট”।

এদিনের শেষ অনুষ্ঠান ছিল মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের ধীরাজ হাওলাদার নির্দেশিত নতুন মূকাভিনয় প্রযোজনা “আজকের দ্রৌপদী”। নাট্যমেলার তৃতীয় তথা শেষ দিন অর্থাৎ ২২মার্চ সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় অঙ্কন প্রতিযোগিতা। তিনটি বিভাগে প্রায় ২০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। এদিন দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় ১৫ জন ম্যাজিশিয়ান নিয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠান “ম্যাজিক মেলা”। নানান বয়সের জাদুকররা বিভিন্ন ধরনের ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। এরপর ছিল একদিনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গুলির পুরষ্কার বিতরণী এবং রাসমোহন দত্ত স্মৃতি সম্মান ও ইমন সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান। তারপর মঞ্চস্থ হয় তপন দাস নির্দেশিত খড়দা থিয়েটার জোন এর নাটক “না না হে”।

এছাড়াও এদিন মঞ্চস্থ হয় অন্তহীন এর কবিতা কোলাজ, সৌরজ্যোতি অধিকারীর গান, মীনাক্ষী পাঠক এর পরিচালনায় মল্লার ও শুকদেব আইচ এর পরিচালনায় নটরাজ মৃত্যগোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান এবং শিবানী হালদার নির্দেশিত মনীষা সাংস্কৃতিক সংস্থার শ্রুতিনাটক “আকাঙ্খা”। ইমন নাট্যমেলার শেষ অনুষ্ঠান ছিল ইমনের শিশু কিশোর নাট্য প্রযোজনা “মিথ্যে রাজার দেশে”।

জয়ন্ত সাহার নাট্যরূপ, আবহ, আলো ও নির্দেশনায় ত্রিশ জন ছোট বন্ধু নাটকটিতে অভিনয় করে। প্রতিদিনই উৎসব প্রাঙ্গণ পূর্ণ করে দর্শকেরা নাট্যমেলায় যোগদান করেন। সব মিলিয়ে ইমন নাট্যমেলা সফল ও সর্বাঙ্গসুন্দর একটি আয়োজন হয়ে উঠেছে।

Related News

Also Read