Select Language

[gtranslate]
৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বুধবার ( ১৮ই মার্চ, ২০২৬ )

৩৫০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপূজা হচ্ছে বারুইপুরে

প্রদীপ কুমার সিংহ 

৩৫০ বছর প্রাচীন দুর্গাপূজা হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর থানা অন্তর্গত বারুইপুর রাস মাঠে রায় চৌধুরী বাড়িতে। রায় চৌধুরী পরিবারের এক সদস্য যিনি রায় চৌধুরী পরিবারে স্টেট চালান, সেই অমিয় কৃষ্ণ রায় চৌধুরী বলেন মহালয়ার পরের দিন দ্বিতীয় থেকেই মায়ের বোধন আরম্ভ হয়।একসময় এখানে অনেক জাঁকজমক ভাবে পূজা হতো। তখন পরিবারের বহু লোক এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ পূজায় অংশগ্রহণ করত।

এখন পরিবারে যে যার মত কর্ম সূত্রে কারণে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। যখন পূজা আরম্ভ হয় তখন পরিবারের লোকেরা সবাই আসে। একসাথে মিলিতভাবে সবাই খুব ধুমধাম এর সঙ্গে এই পূজা করা হয়। প্রতিদিন এখানে মা দুর্গার ভোগ নিবেদন করা হয়। এক সময় দেড় মন চালের ভোগ নিবেদন করা হতো এখন অতটা না করলেও বেশ কিছু পরিমাণে চালের ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে সপ্তমী থেকে নবমী দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই এখানে ছাগ বলি হয়। নবমী দিন ছাগ বলির সঙ্গে চাল কুমড়ো, আখ সহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি বলি হয়। অষ্টমীর দিন ভোগ খাওয়ানো হয় কয়েকশো মানুষ ভোগ মায়ের ভোগ খেতে আসে। সেই ভোগ রান্না করে রায় চৌধুরী বাড়ি পরিবারের মহিলারা।

পূজা দিন গুলিতে রায়চৌধুরী পরিবারের ক্যানিং গোসাবা বাসন্তী প্রভৃতি জায়গায় জমি আছে। সেই লাটের থেকে মানুষ এসে থাকে ও আনন্দ উৎসব করে। দশমীর দিন সকালে রায়চৌধুরী বাড়ির পরিবারের সিঁদুর খেলা হয়। ৪০ জন বাহক বিকালে ঠাকুর কাঁদে করে সদব্রতঘাটে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যায়। এখন সরকার অনুমতি না থাকলেও বারুইপুর রায় চৌধুরীর বাড়ি পুরানো ঐতিহ্য অনুযায়ী নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয়। তারা বিশ্বাস করেন নীলকন্ঠ পাখি স্বর্গে গিয়ে শিব ঠাকুর কে খবর দেয় মা দুর্গা, মরতে থেকে কৈলাসে আসছে। সেই অনুযায়ী দুই এক বছর ছাড়া এই নীলকন্ঠ পাখি উড়ানো হয়। হ্যাঁ, তাছাড়া সদা ব্রত ঘাটে চিরা চরিত্র পথা অনুযায়ী আগে রায় চৌধুরী বাড়ি মা দুর্গা বিসর্জন হবে তারপর অন্য ক্লাব বা বাড়ি বা যে কোন ঠাকুর বিসর্জন হয়।

রায়চৌধুরী বাড়ির মা দুর্গা তৈরি করে যে পটো জয় পাল বলেন তার বংশ পরম্পরা এই পূজার দুর্গা ঠাকুর তৈরি করে হাসছে। আগে গাড়ি চলছিল না, তখন নদীতে নৌকা করে ঠাকুর তৈরি করতে আসত তার ঠাকুরদা বাবার বাবারা। অসীম বাবু গত ৫০ বছর ধরে এই ঠাকুর তৈরি করে আসছেন। পূজার সময়, পূজার কটা দিন এই রায় চৌধুরী বাড়িতে থাকেন এবং আনন্দ উৎসব করেন।

Related News

Also Read