পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণ এবং বীরভূমের রামপুরহাটে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আজ কাঁথি শহরের ক্যানেল পাড়ে একটি প্ৰতিবাদী কর্মসূচী করে কাঁথি ছাত্র যুব নাগরিক মঞ্চ। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নাগরিক মঞ্চের আহবানে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

এই প্রতিবাদী কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যাপক কিংশুক সাহা, প্রধান শিক্ষক ডাঃ সন্দীপ কুমার মিশ্র, সমাজসেবী তন্ময় ভুঁইয়া, অধ্যাপিকা রুম্পা সাউ প্রমুখ, প্রাক্তন শিক্ষক বিমল দাস প্রমুখরা । এই প্রতিবাদী সভা থেকে অধ্যাপক কিংশুক সাহা বলেন, ” বীরভূমের রামপুরহাটের সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে স্কুলেরই শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যাকরে তিন টুকরো করে কেটে প্রমাণ লোপাটের ঘটনা যেমন ভয়ংকর তেমন পৈশাচিক। একজন শিক্ষক হয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার। আজ গোটা সমাজ যেভাবে ‘রেপ কালচার’,’থ্রেটকালচার’ বহন করছে সেখানে প্রশাসনের যে ভূমিকা থাকা উচিত তা আদৌনেই। উপরন্তু নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার ও প্রশাসন বহুক্ষেত্রেই অপরাধীদের প্রচ্ছন্ন মদত জুগিয়ে চলেছে।”

প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মিশ্র বলেন, ” সরকার একদিকে যেমন ন্যায় বিচারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে,তেমনই আর একদিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়াতেও সাহায্য করে চলেছে। যার ফলশ্রুতিতে আর জি কর, কসবা ল কলেজ, পাঁশকুড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ আমরা লক্ষ্য করলাম রামপুরহাটে। এই নারকীয়, পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধৃত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আমরা জানাচ্ছি। অভয়ার ঘটনার ১৩ মাস অতিক্রান্ত। আজও বিচার মেলেনি। আমরা সরকারকে আমরা হুঁশিয়ারী দিতে চাই, আমরা আগেও রাজপথ ছাড়িনি, যতদিন না বিচার আসে, আমরা রাজপথের আন্দোলনেই থাকবো।” এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই কর্মসূচী শেষ হয়।প্রতিবাদী সভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র যুব নাগরিক মঞ্চের অন্যতম কনভেনর বিশ্বজিৎ রায়।





