Select Language

[gtranslate]
২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই মার্চ, ২০২৬ )

৫০০ কেজির স্টিলের রথ, পুরী থেকে আসছে নিম কাঠের তৈরি জগন্নাথের বিগ্রহ

প্রদীপ কুমার সিংহ

 বারুইপুরের রথ যাত্রা উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। শুনে অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ এটাই বাস্তব। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর প্রগতি সংঘের উদ্যোগে সুবুদ্ধিপুর সমন্বয় রথযাত্রা কমিটি এ বছর প্রথম রথযাত্রা উৎসব পালন করতে চলেছে। আর তার আয়োজনও চলছে জোর কদমে। সুদূর পুরি থেকে নিম কাঠ দিয়ে তৈরি চার ফুটের জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর মূর্তি শোভা পাবে ৫০০ কেজি ওজনের ১৮ ফুট উচ্চতার লোহার রথে।

এখানেই শেষ নয়। চমক আরো আছে। প্রথম বছরের রথ যাত্রা উপলক্ষে ভক্তদের জন্য থাকছে এক লক্ষ জিভেগজা বা খাজা। আর তা তৈরি করার জন্য সুদূর উড়িষ্যার পুরি থেকে আসছে ১২ জনের জিভেগজা তৈরীর বিশেষজ্ঞ কারিগরের দল। প্রথম বছর হলেও সারা রাজ্যে বারুইপুরের এই রথযাত্রা সাড়া ফেলবে বলেই আশা করছেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা জয়ন্ত ভদ্র জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘাতে পুরীর মন্দিরের আদলে মন্দির তৈরি করেছেন। পাশাপাশি সারা রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন দীঘার জগন্নাথ ধামের গজা, প্যারা ও মন্দিরের ছবি সম্মলিত মহাপ্রসাদ। আর তার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে, তারাও তাদের প্রথম বর্ষের রথযাত্রা উৎসবে দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের হাতে তুলে দেবেন প্রায় এক লক্ষ জিভেগজা। আরেক উদ্যোক্তা তাপস ভদ্র জানিয়েছেন, পুরীতে নির্মাণ নিমকাঠের তৈরি 4 ফুটের জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর মূর্তি এসে গেছে। বারুইপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অরুপ ভদ্র কমিউনিটি হলের সামনেই চলছে ১৮ ফুট বাই দশ ফুট লোহার তিন তলা রথ তৈরির কাজ। তিনতলা রথে মোট ছোট মেজ ও বড় মিলিয়ে মোট ১২ টি চুড়ো থাকবে। প্রতিটি তলার নির্দিষ্ট কক্ষে রাখা হবে এক একটি দেবতার মূর্তি। অর্থাৎ জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রাকে একসঙ্গে না রেখে তিনটি তলাতে তিন দেবতার মূর্তি রাখা হবে। তিন তলা এই লোহার রথের ওজন প্রায় ৫০০ কেজি হবে। আর এই রথ টানার জন্য যে চাকা লাগানো হয়েছে তা কার্বন ফাইবারের তৈরি টিউবলেস টায়ার দিয়ে তৈরি। আর রথের আগের দিনই বারুইপুর পৌরসভার দুই ও তেরো নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার দুপাশে জয় জগন্নাথ লেখা দশ হাজার গেরুয়া পতাকা লাগানো হবে জানালেন উদ্যোক্তারা। বারুইপুরের এই নতুন রথযাত্রার শুভারম্ভের অপেক্ষায় রয়েছেন বারুইপুর তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মানুষজন।

পাশাপাশি বারুইপুর রাস মাঠে প্রায় ৩৫০বছরের পুরনো রথ নতুন করে সেজেছে। বারুইপুরে এই ঐতিহ্যমন্ডি তে রথ রং সবুজ। আর চুরাগুলি থাকবে লাল রঙের ধ্বজা। এই পথ উপলক্ষে বারুইপুর রাস মাঠে ১৫ দিনব্যাপী মেলা বসে। এখন থেকেই সেই মেলার দোকানগুলি পসরা সাজিয়ে বসতে আরম্ভ করেছে। এই মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দোকান থাকে যেমন বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রি হয়। মনিহারি জিনিস ছোট ছোট রথের দোকান, জিলাপি বাদামের দোকান, আম-কাঁঠাল বিভিন্ন ফলের দোকান, প্রায় ১৫ দিন ধরেই রথ উপলক্ষে জমজমাট একটি মেলা হয়। বহুদিন ধরে রথ উপলক্ষে এই মেলা রাস মাঠে হয়ে আসছে।

সেইসঙ্গে বারুইপুর পদ্মপুকুর ইউথ ক্লাব এর পরিচালনায় রথযাত্রা উৎসব হয় রথের দিনতার প্রস্তুতি চলছে। এই ক্লাবের সভাপতি গৌতম দাসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এখানে প্রায় কুড়ি ফুটে কাঠের তৈরি একটি রথ হয়। তার রং করা হচ্ছে। এবছর পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাবের রথযাত্রা উৎসব নবম বছরে পদার্পণ করবে। এই রথের দড়ি টানে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর থেকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষ এই রথের দড়ি টান দেবে সেইসঙ্গে বারুইপুর পদ্ম পুকুরে ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ এই রথের দড়ি টান দেবে। রথযাত্রার সময় রথ থেকে ভক্তদের উদ্দেশ্যে সারা রাস্তা ব্যাপি ফল বিতরণ করা হয়। পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাব থেকে এই রথ দড়ি টানা হয় প্রথমে পদ্মপুকুর যোগীবট তলায় যায় সেখান থেকে বারুইপুর রেলগেট পর্যন্ত তারপর বিশালক্ষী মন্দির এর কাছে আসে।জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়িতে আট দিন থাকে। এবার এই মাসির বাড়ি জগন্নাথ,সুভদ্রা,বলরাম থাকার জন্য এই ক্লাবের পক্ষ থেকে এই আট দিন কীর্তন উৎসব করবে ।সেই সঙ্গে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পুরীর জগন্নাথ ঠাকুরের যে ৫৮ রকম ভোগ দেওয়া হয় সেই ৫৮ রকম ভোগ এখানে নিবেদন করবে প্রতিদিন। পথে চলতি প্রত্যেক ভক্তকে বাবার মহাপ্রসাদ ভোগ বিতরণ করা হবে।

Related News

Also Read