পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা-২ নম্বর ব্লকের বালিঘাই বিডিও অফিস বালিঘাই-এ যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন জমা দিতে এদিন ভোর থেকেই প্রবল ভিড় লক্ষ্য করা গেল। বিভিন্ন গ্রাম ও পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আসা অসংখ্য যুবক-যুবতীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে। সকাল গড়াতেই লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়তে বাড়তে বিডিও অফিস চত্বরের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

যুব সমাজের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে মানুষের উচ্ছ্বাস যেন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সদ্য কলেজ পাশ করা বা কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা বহু তরুণ-তরুণী এই শিবিরে এসে আবেদন জমা দেন। একইসঙ্গে, লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন জমা দিতেও বহু মহিলাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। ফলে দিনভর বালিঘাই বিডিও অফিস চত্বর ছিল কার্যত উপচে পড়া ভিড়ের চাপে ব্যস্ততম।
শিবিরের কাজকর্ম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আসেন এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজকুমার দুয়ারী। তিনি পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখেন। শিবিরে উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষেবা স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে দেওয়া হচ্ছে।

উপস্থিত ছিলেন সর্বোদয় অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি প্রদীপ দাস, যিনি আবেদনকারীদের উৎসাহ যোগান এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এলাকার তরুণদের তরফে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় দলের যুব সভাপতি অভিনন্দন পাহাড়ি-র বক্তব্যের প্রতি। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যেও ছিল সহযোগিতার মনোভাব।
স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য ও অঞ্চল তৃণমূল সহ-সভাপতি পূর্ণেন্দু শেখর দাস শিবির পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। নারীশক্তির অংশগ্রহণও ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অঞ্চল মহিলা সভানেত্রী অন্নপূর্ণা মাইতি।
এছাড়া শিবিরে ছিলেন মির্জা নাসের হোসেন বেগ, অনিরুদ্ধ পাত্র, অরুণ খামারি, শোভন কুমার দাস প্রমুখ, যারা প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে আবেদনকারীদের সহায়তা করে দিনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করেন।
দিনভর মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করল—যুবসাথী প্রকল্পের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা গভীর। কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ এই প্রকল্পে আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বালিঘাই শিবিরের সাফল্য প্রশাসনের কাছে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির পথও সুগম করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।





