Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।।। ঘাতক ।।।

রিমিতা কর : – ভোর রাতে বিশুর থেঁতলানো দেহটা পাওয়া গেল। খালের ওপারে শনিমন্দিরের পেছনে একটা ঝোপের মধ্যে।

জামাইষষ্ঠীর দিন দোকানে মেলা কাজ। মাখন ভোর বেলা পুকুরে স্নান সেরে ঘরে ঢুকতে যাবে এমনসময় সজোরে সাইকেল ছুটিয়ে এসে সামনে দাঁড়ালো কানু। উত্তেজনায় তার চোখ যেন ঠিকরে পড়ছে। এক নিঃশ্বাসে বলল,

–মাখনদা বিশু খুন হয়েছে। খালের ওপারে শনিমন্দিরের ধারে বডি পাওয়া গেছে। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ।

মুহুর্তে মাখনের শরীরে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। অতর্কিতে সে যেন দশ ফুট গর্তে সেঁধিয়ে গেল। ভয়ার্ত গলায় বলল,

–ঠিক শুনেছিস? আমাদের বিশু? এটা কি করে হল?
–মাখনদা পুলিশ যদি আমাদের ধরে? কাল অত রাত পর্যন্ত তো আমরা ওর সাথে ছিলাম।

–জুতো মেরে তোমার গাল ছিঁড়ে দেব। বুদ্ধিটা কার ছিল রে? আমায় পুলিশ ধরবে কেন? ধরলে তোকে ধরবে হারামজাদা।

আতঙ্কে উত্তেজনায় মাখনের গলা থেকে তীব্র শ্লেষে কথাগুলো বেরিয়ে এল।

কানুর মুখটা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেল। কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
–ও যার জন্য চুরি করি সেই বলে চোর।

–দাঁড়া জামাটা গায়ে দিয়ে আসি।

মিনিট দশেকের মধ্যে কানুর সাইকেলে দুজনে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘড়িতে সাতটাও বাজেনি। খালপাড়ে শ তিনেক লোক জমেছে। লোকাল থানার পুলিশ এমনকি সদর থানা থেকেও পুলিশ এসেছে। বিশুর চাদর মোড়া দেহটার কাছে এগিয়ে আসে মাখন। একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বিশুর দোকান মানে জগদ্ধাত্রী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক তারাপদ ঘোষ। তারপাশে দোকানের অন্যান্য কর্মচারীরা।

মাখনকে দেখে জগদ্ধাত্রীর পঞ্চানন এগিয়ে এল। তার দুচোখে জল।
–ছেলেটার এমন অবস্থা কে করল বলতো মাখন। একটা পঁচিশ বছরের ছেলেকে এইভাবে কেউ খুন করতে পারে?

মাখনের বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। চোখ ফেটে জল আসে। বড় মায়া কাড়ত বিশু। কাল রাতেও নেশার ঘোরে ছেলেটা কত কিছু বলছিল। বারবার বলছিল দাদা একাজ আর ভালো লাগছে না। বোনটার বিয়ের জন্য শুধু পড়ে থাকা। একাজ এবার ছেড়ে দেব।

মাখনের এখন নিজের প্রতি ধিক্কার লাগছে। হাঁটুর বয়সী ছেলেটাকে সে কিনা হিংসা করত? তবে সত্যিই ছেলেটার অসাধারণ প্রতিভা ছিল। না হলে এমন হৈ হৈ করে ওর হাতের মিষ্টি বিক্রি হয়? একবছর আগে জগদ্ধাত্রী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার যখন তৈরি হলো তখন তেমন লোক হত না। অন্নপূর্ণায় মাখনের হাতে তৈরি মিষ্টির চাহিদা বরাবরই তুঙ্গে। চেনা পরিচিত কত লোক বলে যেত মাখন এ অঞ্চলে তুই সেরা। অন্য কোন মিষ্টির দোকান এখানে দাঁড়াতে পারবে না। সত্যিই তাই ঝাঁ চকচকে সাজানো নতুন দোকান জগদ্ধাত্রী মিষ্টান্ন তখন বলতে গেলে মাছি তাড়াত। সেইসময় জগদ্ধাত্রীর মালিক তারাপদ একবার মাখনকে মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে ছিল। মাখন যায়নি। বেইমানি তার ধাতে নেই। টাকার লোভে কুড়ি বছরের পুরনো দোকান ছেড়ে পাশের দোকানে চলে যাবে এমন অধর্ম সে করতে পারবে না।

কিন্তু আশ্চর্য মাস দুই আগে জগদ্ধাত্রীতে বিশু আসার পর সব হিসেব পাল্টে গেল। বিশুর হাতের তৈরি মিষ্টির চাহিদা হুহু করে বাড়তে লাগল। অন্যদিকে মাখনের দোকানে ভাটা পড়ল। চেনা লোকগুলো হঠাৎ করে অন্নপূর্ণা ছেড়ে জগদ্ধাত্রীতে ভিড় করতে শুরু করল।

জামাইষষ্ঠীর দিন। তাই অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভান্ডার খোলা রাখল মালিক। বাজারের লোকজন ঠিক করল বিশুর স্মরণে আগামীকাল বাজার বন্ধ রাখবে।

মাখনের আজ হাত চলছে না। অন্নপূর্ণার গনগনে আঁচের সামনে বসে সিঙাড়া ভাজতে ভাজতে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু ভাবছে বিশুর এতবড় শত্রু কে হতে পারে? তারা তো শুধু বিশুকে মদ খাইয়ে মাতাল করতে চেয়েছিল। যাতে আজ জামাইষষ্ঠীর দিন ওর কাজে আসতে দেরি হয়।
করবেই না কেন? অন্নপূর্ণার মালিক সনাতন সাহা একগাদা কথা মাখন কে শুনিয়ে যায় রোজ।

–কি ব্যাপার বলতো মাখন? আমরা তো কিছুতেই ওই জগদ্ধাত্রীর সাথে পেরে উঠছি না। ওদের দিনে যা বিক্রি হয় আমাদের সপ্তাহেও তা হচ্ছে না। ওদের ওই ছোকরা হালুইকর বিশুর সাথে তোর তো বেশ দোস্তি। একটু তো জিজ্ঞেস করতে পারিস।

সনাতনের কথা গুলো গরম তেলের মতো ছ্যাঁকা লেগেছিল মাখনের বুকে। মুখের ওপর বলেছিল,
–এরচেয়ে ভালো আর হবে না। এতকাল যেমন ভাবে হয়ে এসেছে তেমন ভাবেই করছি। লোক না খেলে কি করব?

–মেলা ফ্যাচফ্যাচ করিস না মাখন। আর কদিন দেখব তারপর তোকে দূর করব। ডবল টাকা দিয়ে ওই বিশুকে কাজে রেখে দেব। শুধু সামনের জামাইষষ্ঠীটা দেখব।

সাগরেদ কানুর মত মাখনের মন কেউ বোঝে না। কানুকে মাখন তার সুখ দুঃখের সব কথা বলে। একমাত্র কানু জানে ফুলশয্যার রাতে মাখনের বউ তার প্রেমিকের সাথে পালিয়েছিল। সেই অপমানে মাখন আর বিয়ে করেনি। কানু এও জানে দুলে পাড়ার বিধবা বউ পারুলকে ইদানিং মাখন মনে মনে পছন্দ করে। কানু বোঝে মিষ্টি তৈরির সুখ্যাতিটুকুই মাখনের নিঃসঙ্গ জীবনে একমাত্র তৃপ্তি। সনাতনের নির্মম কথাগুলো কানুর বুকেও বাজে।
তাই ছানার লেচি পাকাতে পাকাতে নিচু গলায় কানু বলেছিল,
–মাখনদা আমার মাথায় একটা জবর বুদ্ধি এসেছে। শুনবে?
–কি?
–জামাইষষ্ঠীর আগের দিন বিশুটাকে হেবি মাল খাইয়ে কাত করে দিলে কেমন হয়? সকালে উঠতে পারবে না। এদিকে জামাইষষ্ঠীর বাজার জমে উঠবে। লোক মিষ্টি না পেয়ে আমাদের কাছে আসবে।

কানুর কথাটায় মাখনের মাথা হঠাৎ করে গরম হয়ে যায়। কানুও তাহলে বিশুকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছে। পঁচিশ বছরের ছোকরা বিশুকে ভয় পাবে মাখন হালদার? তখন রাগে মুখে কিছু না বললেও পরে মাখনের মনে হল কানুর বুদ্ধিটা মন্দ নয়। এতে বিশু একটু গালমন্দ খাবে। তবে তারাপদ বিশুকে তাড়াবে না। এদিকে সনাতনের কাছে তার মানটা বাঁচবে।

জামাইষষ্ঠীর আগের রাতে দিশি মদের ঠেকে বিশুকে ঢুকতে দেখেই সজাগ হয় মাখন আর কানু।
বিশু একগাল হাসি নিয়ে নিজেই মাখনের দিকে এগিয়ে আসে।
–মাখনদা আজ যে বড় আমায় ফেলে চলে এলে।
–তুই দোকান নিয়ে পড়ে থাকবি তো আমরা কি করব?
–কাল জামাইষষ্ঠী তাই কাজ এগিয়ে রাখছিলাম।

–নে নে শুরু কর।
মদ ভর্তি কাঁচের গ্লাসটা বিশুর দিকে এগিয়ে দেয় মাখন।

রাত প্রায় এগারোটা। বিশুর টালমাটাল অবস্থা। ওকে ওইভাবে চন্দুর ঠেকে রেখে চলে আসে মাখন আর কানু।

সদর থানার অফিসার ইমতিয়াজ আলির ওপর তদন্তের ভার পড়ল।

এদিকে চরম বিবেকের দংশনে দগ্ধ হতে থাকে মাখন। কানু অনেকবার বারন করল,
— তুমি থানায় যাবে না মাখন দা। তুমি তো খুন করো নি। পুলিশ কে নিজের কাজ করতে দাও।

মাথা নীচু করে কি যেন ভাবতে থাকে মাখন। বেশ কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে বলল,

–তুই যাই বল কানু বিশুর খুনের পেছনে আমার হাত আছে।

কানু তেড়ে উঠল।

–কি পাগলের মতো কথা বলছ? তোমার কি হাত? বিশু আমাদের সাথে বসে মদ খেয়েছে এই পর্যন্ত।

–,কিন্তু আমরা তো ওকে জোর করে অতিরিক্ত মদ খাইয়েছি। তাতেই তো—

–তাতেই কি? বলো? বিশু মরে গেল? কেমন করে মুখটা থেঁতলে গেছে দেখলে তো। খালের ওপারে কারা ওকে নিয়ে গেল? পুলিশ ঠিক বার করবে। তবে জানো একজন কে আমার সন্দেহ হয়।

-‘কাকে?
–আমাদের সনাতন সাহা কে। ও সব পারে। দোকানের সেল কমে যাচ্ছে দেখে কেমন যেন উন্মাদ হয়ে গেছে। আজকাল সবসময় গুম হয়ে থাকত। মনেহয় ছক কষত। বুঝেছে বিশুকে না সরালে আমাদের দোকানের হাল ফিরবে না। তাই বলছি মাখনদা ওসব নিয়ে ভেবো না। পুলিশের কাজ পুলিশকে করতে দাও। খবরদার বলছি তুমি আগ বাড়িয়ে কিচ্ছু বলতে যাবে না কাউকে।

মাখন জানে এ জীবনে কানুর মতো শুভাকাঙ্ক্ষী তার আর কেউ নেই। কানু যা বলছে ভালোর জন্যই বলছে। কিন্তু বিবেক ? তার থেকে বড় আদালত যে হয় না। সারা রাত মাখন পাগলের মতো ছটপট করে। স্পষ্ট দেখতে পায় বিশু যেন তার তক্তপোশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তার কাতর চোখদুটো গ্রাস করছে মাখনকে। সে যেন বলছে, ছিঃ মাখনদা শেষ পর্যন্ত তুমি আমাকে মেরে ফেললে? আমার মা আর ছোট বোনটার কথা একবারও ভাবলে না। মাখন উন্মাদের মতো চিৎকার করে ওঠে,
–বিশ্বাস কর বিশু আমি তোকে মারিনি। আমি কাউকে মেরে ফেলার কথা ভাবতেও পারি না।

একটা ঘোরের মধ্যে মাখনের সারাটা রাত কেটে যায়। বিবেকের দংশনে ক্লান্ত মাখন বুঝতে পারে বিশুর প্রকৃত খুনি না ধরা পড়লে সে কিছুতেই শান্তি পাবে না।

সকাল দশটা নাগাদ মাখন বেরিয়ে পড়ল থানার উদ্দেশ্যে। অফিসার ইমতিয়াজ কে খুনের আগের রাতের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানাল। দুচোখে জল নিয়ে মাখন কাতর ভাবে বলল,

–অফিসার আমি আপনাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করব। বিশু আমার ভাইয়ের মতো ছিল। আপনি শুধু খুনীকে ধরে দিন।

ইমতিয়াজ মাখনের সব কথা বিশ্বাস করলেন কিনা বোঝা গেলনা। শুধু বললেন,
–তোমার কাকে সন্দেহ হয়?
–আজ্ঞে এটুকু বলতে পারি ঠেকের মালিক চন্দু অনেককিছু জানে। আমরা চলে আসার পর বিশু জ্ঞান হারিয়ে ওখানে পড়েছিল।

মাখন চলে আসার পর খবর পেল চন্দু আর তার বউকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।

পরদিন সকালে থানায় মাখনের ডাক পড়ল।
সেখানে গিয়ে সে দেখল জগদ্ধাত্রীর মালিক তারাপদ বিধ্বস্ত অবস্থায় বসে আছে। তারপাশে কাঁচুমাচু মুখে চন্দু আর তার বউ। মাখন একটু অবাক হল। সে তো অন্যকিছু ভেবে এসেছিল। ভেবেছিল পুলিশ ঠিক সনাতনকে ডেকে আনবে। কিন্তু তারাপদ কেন? বিশু খুন হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিতো তারাপদর হওয়ার কথা। মাখনের মাথায় তালগোল পাকিয়ে যায়।

অফিসার মাখন কে দেখে বেশ খুশি হলেন। হাসিমুখে বললেন,

–এসো মাখন। তোমার সাহায্য না পেলে এত সহজে সমাধান হত না। তোমার কথা মতো চন্দুকে ডেকে ধোলাই দিতেই সব কথা বেরিয়ে এল। একদিনের মধ্যে পুরো ব্যাপারটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।

মাখন আর ধৈর্য রাখতে পারছে না। নামটা শোনার জনা উদগ্রীব হয়ে আছে।

–এই দেখো এই তারাপদ ঘোষ লোক দিয়ে বিশুকে খুন করিয়েছে। ভাবছ তো কি করে সম্ভব? যে বিশুর জন্য জগদ্ধাত্রীর এতো রমরমা তাকে মালিক মারবে কেন?

টেবিলের ওপর কাঁচের পেপার ওয়েট ঘোরাতে ঘোরাতে একটু সময় নিল ইমতিয়াজ।

মাখনের দমবন্ধ হয়ে আসে।
তারাপদর দিকে চেয়ে হিসেব মেলাতে চেষ্টা করল। পুলিশের কি কোথাও কোন ভুল হচ্ছে? অফিসার কে মাখন কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইমতিয়াজ শুরু করলেন।

–এর পিছনে বিরাট একটা গল্প আছে মাখন। তারপদ বহুদিন ধরে ড্রাগ পাচারের সাথে যুক্ত। অতিরিক্ত লোভের জন্য কয়েকমাস ধরে মিষ্টিতে কৌশলে ব্রাউন সুগার মেশাতে শুরু করেছে। তাই পুরনো হালুইকর কে ছাড়িয়ে বিশুর মতো কমবয়সী সরল ছেলেকে কাজে নিয়েছিল। জামাইষষ্ঠীর আগের রাতে বিশু হাতেনাতে ধরে ফেলেছিল তারাপদর এই জঘন্য কীর্তি। প্রতিবাদ জানায় সে। সবাইকে বলে দেবার ভয় দেখায়। আর তাই সেই রাতেই বিশুকে এইভাবে মরতে হল।

মাখনের সব হিসেব গুলিয়ে যাচ্ছে। সে এত বছর ধরে তারাপদ কে দেখে আসছে। মিষ্টভাষী হাসিখুশি মানুষ। সেই তারাপদ এতবড় শয়তান? এমন জঘন্য অন্যায় কাজ সে দিনের পর দিন করে যাচ্ছিল। কেউ কিছু জানতে পারেনি এটা হয়?

ইতিমধ্যে কানু থানায় এসে হাজির। সব শুনে সেও হতবাক। মাখনের কাছে এগিয়ে আসে।

–মাখন দা। এবার চলো। সব শুনলে তো? একটা হিসেব কিন্তু মিলে গেল। এ অঞ্চলে তোমার থেকে বড় হালুইকর কেউ নেই। বিশুতো নিজেই তোমার কাছ থেকে কাজ শিখতে চাইত। সত্যিই আমাদের কারোর এমন কোন সন্দেহ হয়নি। বিশু এই বয়সে তোমার থেকে ভালো মিষ্টি কিভাবে বানাবে?

মাখন ছলছল চোখে অফিসারের দিকে এগিয়ে যায়।
–দেখবেন স্যার এই শয়তানটার যেন শাস্তি হয়। একটা পঁচিশ বছরের সরল ছেলেকে বিনা দোষে মেরে ফেলল।

–সে আর বলতে মাখন। তবে তুমি সেদিনের সব কথা অকপটে না বললে কাজটা এত সহজ হত না।

মাখন আর কানু থানার বাইরে আসে। বিশু যে নেই এখনো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না তাদের। বিশুর সরল চোখদুটো মাখনের চারপাশে যেন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে কাল রাতের মতো সে চোখে যেন কোন অভিমান নেই। মাটিতে বসে পড়ে মাখন। দুহাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে ওঠে।

সৌজন্যে প্রতিলিপি

Related News