Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। #গল্প #শক্তিরূপেণ_ ।।

কাকলী মৌমিতা সরকার :-রক্ত মাখা দা টা হাতে নিয়ে জমির আল ধরে , ধীর টলোমলো পায়ে এলোমেলো ভাবে এগিয়ে আসতে থাকে , তুলি …জামায় রক্ত ভর্তি…..

সবুজ ধানের ধারালো পাতার ওপর ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ছে দা থেকে,,, যা তুলির ধার হয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে….. ধার টা দা -এর হলেও,, ধার টা আসলে তুলির মনের….. শান দিয়েছে ,একবছর ধরে …..

একঘরে হয়ে, রাত জেগে, কেঁদে, চোখের নিচে অমাবশ্যার অন্ধকার এঁকে ,বাবা মায়ের কান্না,দীর্ঘস্বাসে ভর করেই ধার দিয়েছে ও …দিতেই হয়েছে …যত বেশি বিদ্রুপ শুনেছে তত বেশি শানিত হয়েছে ওর মন ..!

গ্রামের নাম মুরুটি । ছোট্ট মুদির দোকান চালান পরান পাল। সাদাসিধে একজন ভীষণ শান্ত নিপাট ভালো মানুষ । স্ত্রী , পুত্র, এবং কন্যা সহ নানান অভাব অনটনের সম্মুখীন হয়েও তার সংসার সুখের ।

ছেলে র বয়েস আট হল, মেয়ে তুলি সতেরো ,স্থায়ীয় বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী । দেখতে যেমন মিষ্টি , তেমনি মিষ্টি তার স্বভাব।পড়াশোনার প্রতিও বেশ আগ্রহ। বাবার সামর্থ্য নেই , প্রাইভেট টিউটর দেবার ,,,, তুলি যা করে ,নিজের চেষ্টায় ,, নিজে পড়ে ভাই কে পড়ায় … আবার মায়ের হাতে হাতে, ঘরের কাজও করে দেয় ….।

পাড়া- প্রতিবেশী সবাই, তুলির মিষ্টি স্বভাব এবং নরম মনের জন্য ওকে লক্ষী মেয়ে বলেই ডাকে, স্নেহ করে .…

বাবা আদর করে বলে , তুলি আমাদের লক্ষী মা। যত কষ্টই থাকুক না কেন, ওর মুখ খানি দেখলে বড় শান্তি পাই … একদম আমার মায়ের মুখ খানি যেন বসানো ।

ভাই কে সাথে নিয়ে বাড়ির উঠানে ফুল গাছ লাগিয়েছে তুলি । শিউলি ফুলের গাছ টা তেও অল্প কিছু ফুল ফুটছে ক দিন ধরে, চারা টা তুলি এনেছিল ওর এক বান্ধবীর বাড়ি থেকে । গন্ধে সারা বাড়িটা ম ম করে ,ফুল ফুটলে… । আর বাতাসে শিউলির এই মন ভরানো গন্ধ ভেসেই ,মায়ের আগমনের খবর আসে …

গ্রামে প্রতিবার পুজোয় মেলা বসে। গ্রামের লোক বছরে এই একবারই প্রাণ ভরে আনন্দে মেতে ওঠেন । একটাই পুজো হয় ,সারা গ্রাম মিলে । ছোট্ট মেলা বসে , পুজোর চাতাল এর পাশেই । একপাশে আবার কিছু না কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় রোজ,, যাত্রা, কবি গান, বাউল গান…।

মায়ের মুখ দর্শন করে, অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণ গান শুনে, জিলিপি কিনে বাবা মা ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফেরে তুলি । এরকম টাই হয়ে আসছে ,ছোট বেলা থেকেই …।

গতবার সপ্তমীর দিন , মায়ের সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হচ্ছে তুলি । হলুদ রঙের সুতি ছাপা চুড়িদার টা পরে, চুল টা বিনুনি করতে থাকে ….। বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবার বাবা দুই ভাই বোন কে নুতন জামা কিনে দেন, । দামি না হোক,নতুন তো ,,, এতেই দুই ভাই বোনের আনন্দে ধরে না । মেয়ের বায়না মেটাতে নিজেদের ও নিতে হয় নতুন বস্ত্র। পরান বাবু তাই নিজের একটি গেঞ্জি আর সহধর্মিনীর জন্য সুতির শাড়ি কিনে আনেন গ্রামের হাট থেকে । আর মনে মনে বলেন -মেয়ের সব দিকে নজর থাকে, শুধু নিজের টা পেয়েই খুশি হয় না, সবার জন্য ভাবে ,,তাই তো কখনো দামী কিছু পছন্দ করে না,দোকানে গিয়ে …..ও বোঝে, নিজে একা দামী পড়ার থেকে, সবাই মিলে নতুন বস্ত্র পড়বো আনন্দ করে, হোক না কম দামের ,তাতে কি …..

চোখে জল আসে এসব ভেবে পরান বাবুর …

মা আর ভাই এর সঙ্গে বেরোয় তুলি । মায়ের মুখ দর্শন করে, প্রণাম করে , ভাই ও মায়ের সঙ্গে বসে বাউল গান শুনতে । বাবা দোকান বন্ধ করে আসবেন , একটু গান শুনে , তারপর সবাই এক সঙ্গে ফিরবে ,বাড়ি ।মাটিতে চট পেতে পেতে সবার বসার জায়গা,, একদিকে মহিলা ও একদিকে পুরুষ , এই ভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

কিছুক্ষন পরে , তুলি কে বসে থাকতে দেখে ওর বান্ধবী পলা ওকে ডাকতে আসে , মেলা ঘুরে দেখার জন্য ।যদিও দু পাঁচটা দোকান সহযোগে একদমই ছোট্ট মেলা , তবুও দুই বান্ধবী একটু ঘুরে দেখবে এতেই ওদের সীমাহীন আনন্দ।

মায়ের কাছে অনুমতি নিয়েই উঠে আসে তুলি। পলা বায়না করে ….নাগর দোলায় ওঠার জন্য,,,, তুলি কিছুতেই উঠবে না ,শেষে উঠতেই হয় … নাগর দোলাটা বসেছে , মেলার মাঠের শেষ প্রান্তে । তাই এখানে আলো ও কিছু টা কম। নাগর দোলায় চড়া শেষ। নাগর দোলায় চড়ে তুলির মাথাও দুলতে থাকে ,,, নেমে আসার পর ও মনে হয় ,যেন এখনো নাগর দোলাতেই বসে আছে । তাই তুলিকে বসিয়ে রেখে জল আনতে যায় পলা,, মুখে চোখে একটু ছিটিয়ে দেবে….

ফিরে এসে আর তুলিকে দেখতে পায় না……..

তুলি কে খুঁজে পাওয়া যায় , পরের দিন সকাল বেলায় ,, দূরে তাল তলার মাঠের শেষ প্রান্তে ভঙ্গপ্রায় জমিদার বাড়ির ভেতরে , যেখানে দিনের বেলা তেও গ্রামের লোকজন খুব একটা যায় না , , জঙ্গল হয়ে গেছে, সাপ খোপ পোকা মাকড়ের ভয়, তারপর বাড়িটি যখন তখন ভেঙে পড়তে পারে ,,,, ।

তুলি কে দেখে কান্না থামেনি ওর বাবা মায়ের অনেক দিন পর্যন্ত । সম্পূর্ণ উলঙ্গ , শরীরের বিভিন্ন জাগায় ক্ষত ,,ঠোঁটের দু পাশ বেয়ে পড়তে থাকা রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে আছে , সারা শরীরে কালশিটে,, এই অবস্থায় উদ্ধার হয় তুলি । জান টুকু শুধু আছে বোধ হয়। মেয়ের কথা বলা তো দূর , চোখ মেলে তাকানোর ক্ষমতা পর্যন্ত নেই ,,,,,,,চোখ মুখ ফুলে গেছে ….

গণধর্ষণের শিকার তুলি ।

গ্রামের কিছু ভালো মানুষের সহায়তা এবং সাহসে ভর করে পরান বাবু থানায় যান, অভিযোগ জানাতে ,,,, অপরাধীর নাম শুনে অভিযোগ নিতে চাননা বড়বাবু। জলের মতন পরিষ্কার যে , ক্ষমতা এবং অর্থ যাদের পকেটে তাদের বিরুদ্ধে যাওয়াটাই আসলে বোকামির পরিচয়, তাতে বিপদ আরও বাড়ে তো কমে না…….

মেডিকেল টেস্ট-এর নামে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হয় তুলি । বেশ বুঝতে পারে , সবটা ইচ্ছে করেই ,সবটা তাকে আরো বেশি ভয় পাওয়ানোর জন্যই ……

বড় বাবু , থানা ভর্তি পুলিশ কনস্টেবল ,এর সামনে তুলি কে এমন অশালীন প্ৰশ্ন করতে থাকেন যার উত্তরে তুলি কান্না ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না .….….

কাদের হাতে নিরাপত্তা….গরীব মানুষের জন্য কি কোনোই , আইন নেই,,সঠিক বিচার কি আমরা পাবো না ,,,, এসব এখন ভাবিয়ে তোলে তুলিকে ….

বড়বাবু সৎ পরামর্শ দেন,যেটি আসলে অসৎ- অভিযোগ করে কোনও লাভ নেই ,, এসব ছোট খাটো ঘটনা, ঘটতেই থাকে , খবরের কাগজ দেখেন না …..অপরাধীর কিছুই হয় না বুঝলেন,, যত জল ঘোলা করবেন তত বিপদ বাড়বে , কিছুদিন যেতে দিন সবাই সব ভুলে যাবে, যত বেশি ঘাটবেন তত আপনার মেয়েরই বদনাম মশাই ,,,, আর দোকান চালান , ধরুন সেটা আর খুলতে পারছেন না,,, খাবেন কি তখন ……

পরান বাবুর কিছুই আর বুঝতে বাকি থাকে না,,, দু চোখে জল নিয়ে ঘরে ফেরেন ….

গ্রামের লোক প্রধানের বিরুদ্ধে যেতে চায় না ,সে অর্থ এবং ক্ষমতা দুই এর অধিকারী , গ্রামের অধিকাংশ জমির মালিক, তার জমিতে গায়ে খেটেই বেশীর ভাগ লোকের পেট চলে ,, গ্রামের লোক মিশতে চায় না তুলিদের পরিবারের সাথে …. ভয় পায়, , পাছে , তাদেরও কোনো ক্ষতি হয়..।

যে তুলির শান্ত স্বভাব এবং আচরণের জন্য গ্রামের সবাই লক্ষীমন্ত বলত ওকে,, তারাই এখন ওর চরিত্রে নানান দোষ খুঁজে পায় …….

রোজ রাতে তুলি একই স্বপ্ন দেখে…যা সত্যি ই ঘটে গেছে ওর সাথে ,, এক টার পর একটা নরপশু পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে ওর শরীরে মনে ,সারাটা রাত ধরে ,মেরে ফেলতে চেয়েছিল শেষ টায় …টিপে ধরেছিল গলা ,, নিস্তেজ হয়ে গেছিল শরীর .,, কেন যে মরলাম না…….
কেঁদে ওঠে , ভয়ে দু চোখের পাতা আর এক করতে পারে না …..

ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে থাকে তুলি আজকাল …. ওর শীতল স্থীর দৃষ্টি ওর মায়ের মনে ভয় ধরিয়ে দেয় …..খুব চোখে চোখে রাখে মা ওকে, কি জানি … মেয়েটা যদি…. ,, আর ভাবতে পারে না, চোখে জল আসে …… যাই হয়ে যাক, তবু তো মেয়েটার জীবন টা আছে ,,,,,,

পলাশ দা সেদিন …..

কি রে তুলি ,, কি হয়েছে??
তুলি.. কিছু হয়নি পলাশ দাদা, নাগরদোলায় ভয় পাই, দেখো না পলার কথা শুনে উঠলাম,এখন আমার মাথা টা বন বন করে ঘুরছে ….
পলাশ… শোন কাকুর ও শরীর টা খারাপ, দোকান থেকে ফেরার পথে মাথা ঘুরে পরে গেছেন,, কাকিমা চলে গেছেন,,আমাকে বললেন তোকে বাড়ি নিয়ে যেতে …

তুলি আর এক মুহূর্ত চিন্তা না করে ,বাড়ির দিকে পা বাড়ায় ,পলাশ দাদার সাথে…..

রাস্তা প্রায় ফাঁকা,,,,, সবাই ঘর দোর বন্ধ করে ,বাউল গান শুনতে গেছে ….. পলাশ আর তুলির পেছন পেছন আরো চার জন আসছে ……..মুখ চেপে,বেঁধে তুলি কে নিয়ে যাওয়া হয় জমিদার বাড়ি …

পলাশ ,শ্যামল, বিনয়, সুরেশ আর সব থেকে বেশি ভয়ঙ্কর প্রধানের ছেলে রনজয় ।অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে, অন্য মোবাইলে সব ভিডিও করে নেয় …..

পলাশ দা কে নিজের দাদার মতন করেই দেখে আসছে তুলি,দাদা বলেই ডাকে ছোট থেকে ,, ভদ্র, শিক্ষিত ছেলে হিসেবেই পরিচিত গ্রামে ….. বিনয় ,সুরেশ ,রনজয় শহরে পড়াশোনা করে ,গ্রামে আসে কোনও পার্বনে ..বা বাড়িতে বিশেষ কোনও প্রয়োজন থাকলে ……শ্যামল দাদাও তো অমন নয় ……
কাউকে বিশ্বাস করাই দায় …..

বাবা মায়ের দীর্ঘস্বাস ,, অপারগতার আক্ষেপ , মায়ের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কেঁদে ওঠা,, ভাই কে কারোর খেলতে না নেওয়া , বান্ধবীদের থেকে দূরত্ব, স্কুল যেতে না পারা,পড়া প্রতিবেশীর আড়ালে আবডালে নানান কু -কথা , ক্ষত যেন সেরে উঠতেই দেয় না …. স্বাভাবিক হতে দেয় না কিছুই …….।

কিছুমাস গ্রামে না ফেরার পর আবার গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে …….. পশু গুলো ,, আরো বেশি যেন বেড়েছে ওদের উপদ্রপ , পথে ঘাটে মেয়েদের হেনস্থা করে ,গ্রামে আসলেই ..…

তুলি নিজেকে ঘর বন্ধি করেছে শুধু ……আর অপেক্ষার প্রহর গুনেছে …. মনের আগুনে পুড়ে যেতে যেতে নিজেকে শক্ত বানিয়েছে………

ছোট থেকে লক্ষীমন্ত কথাটা শুনে শুনে, লক্ষী মেয়ে হিসেবেই থাকতে চেয়েছে তুলি ,,,,, ঘরে টাঙিয়ে রাখা কালী মায়ের শক্তি স্বরূপা মূর্তি টি এখন ওর ভালো লাগে, শক্তি জোগায় মনে …… সবই তো মায়ের রূপ , কোনও টা শক্তির, বিদ্যার, ধন -ঐশ্বর্য্যেরর ,শান্তির ,,,,,

মানুষ শুধু নিজের প্রয়োজন মত আরাধনা করে …….. মহিষাসুরমর্দিনী ও তো শান্ত স্নিগ্ধ উমার আর এক রূপ ,, শক্তির রূপ ,,,,, মহিষাসুর নিধনেই যার পুনরায় সৃষ্টিকরন করা হয় …..

মানুষ পুজো করবে ঠিক ই ,,,,, কিন্তু শান্ত শিষ্ট লক্ষীমন্ত মেয়ে, নারী ই সকলের প্রিয় ….. প্রতিবাদী , শক্তি স্বরূপা নারী কারোর পছন্দের নয়….. সমালোচনার বিষয় সেটি বরং…….

পরিকল্পনা চলছিল..
পরিস্থিতি কিছুটা সামলে নিয়েই,, তুলি জেনেই গেছিলো ,, তুলোর মতন নরম থেকে অন্যায়ের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়তই,, তাই খড়্গ হাতে নিয়ে মা কালী রূপে দুষ্টের বিনাশের জন্য বিকট রূপ ধারণ করতেই হয়……….

দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে , আর নিজের হাতেই দিতে হবে ……

আবার মায়ের আগমনের দিন আসে । সেই মেলা বসে , আনন্দে মেতে ওঠে সবাই …

তুলি ও নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে বেরোয় … একা …. আর ভয় নেই ওর, কিচ্ছু হারাবার নেই আর ……. সবাই অবাক ওকে দেখে ,,, এত দিন তো দেখাই যায় নি ,,, এখানে আজ কেন …..…..

মেলার মাঠে ঘুরতে থাকে তুলি …. যা ভেবেছিল ঠিক তাই, শয়তান গুলোর নজর ওর ওপর পড়েছে …. কিছুক্ষণ পর বাড়ির রাস্তায় পা বাড়ায় ,,, শয়তানের দল পেছনেই আসছে ,,, ভয় আবার এক অদ্ভুত বিকৃত হাসি হেসে ওঠে মনে মনে তুলি ……

শয়তান গুলো জানেই কোনও শাস্তি ওদের হবে না, দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে ওরা ,, এত আত্মবিশ্বাসের যোগান ওদের সমাজ আর আইনি ব্যবস্থা স্বরূপ অব্যবস্থাই দিয়েছে,,,,,,,
গতকাল ও মেলার মাঠে দুটো মেয়ের হাত ধরে ওরা টানাটানি করছিল,,, কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি,, শুধু মেয়েরা ঘর বন্ধি হয়েছে…. বঞ্চিত পুজো দেখার আনন্দ থেকে….. মায়ের আগমনের আনন্দে ,মেয়েরাই বন্দি ….

তুলি কে আবার পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে সেই জমিদার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় ….. সব মিলছে পরিকল্পনা অনুযায়ী ,শেষ রক্ষা করো মা কালী , মনে মনে মা কে ডাকতে থাকে তুলি……

মেঝেতে ফেলে দেয় ওরা তুলিকে ….তুলিকে ঘিরে অট্টহাসি তে ফেটে পড়ে ওরা … নিজের চোখ টা বন্ধ করে, জামার ভেতর থেকে ঠোঙা টা বের করে ,লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয় তুলি……..

চোখ বন্ধ করে নেয় ওরা…জ্বলে যাচ্ছে চোখ ,তাকাতেই পারছে না …. গালাগালি করতে থাকে তুলিকে … হাতড়ে বেড়াতে থাকে ……

পালিয়ে যাবি কোথায় … শালী …? ঠিক ধরে ফেলবো তোকে,,, আগের বারের থেকেও বেশি কষ্ট দেব তোকে… এত সাহস তোর…

হাসতে থাকে তুলি…. না রে পালাবো না,,, নিজেই তো ধরা দিলাম তোদের হাতে বুঝলি না তোরা….. বলেই…

আগে থেকেই জমিদার বাড়ীতে, লুকিয়ে রাখা দা টা দিয়ে, পলাশের গলায় কোপ বসায় তুলি. রক্ত ছিটকে আসে তুলির মুখে…. চিৎকার করে ওঠে পলাশ… রক্তে ভেসে যাচ্ছে ওর জামা…… ওকে দিয়েই শুরু, বিশ্বাস টা তো ওই ভেঙ্গেছিল….

এর পর এলো পাথারি সবার ওপর আঘাত করে তুলি ….

একজনের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট টা জ্বলছিল….ছিটকে পড়ে গেছিলো দূরে,,,, তুলি কুড়িয়ে কাছে নিয়ে আসে ….দেখতে থাকে ওদের ভয় পাওয়া মুখ গুলো,,,, খুব শান্তি খুব,,,,

কারোর পেটে, কারোর পিঠে কোপ লেগেছে…. আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েছে নীচে । অসীম শক্তি যেন তুলির আজ …. ঠোঙা ঠোঙা লঙ্কার গুঁড়ো ক্ষত স্থানে দিয়ে চলছে ওদের …. চিৎকারে ফেটে পড়েছে ওরা,,, কেউ শুনবে না , সবাই বাউল গান শুনছে যে …….

হাসিতে ফেটে পড়ে তুলি …….

ওদের চিৎকারে পরম তৃপ্তি ..

সব জ্বালা যেন জুড়িয়ে যাচ্ছে এত দিনের ….

দা টা নিয়ে আবার ওদের দিকে এগিয়ে যায় তুলি ……..

ভীষণ ক্লান্ত লাগছে ,,,,,,,, ভোর হতে চললো প্রায় …. আলোর রেখা পূব দিকে স্পষ্ট …… আর কিছুক্ষন ….. হাতের রক্ত মাখা দা টা , ধুয়ে নেয় তুলি …… নিজেও ডুব দেয় পুকুরের জলে …. সব রক্ত ধুয়ে যায় ….

ধীর পায়ে ,বাড়ির দিকে রওনা দেয় তুলি …..পেছনে জমিদার বাড়িতে বিক্ষিপ্ত ভাবে পরে থাকে , পাঁচ টা অসুরের মুন্ড হীন দেহ …..

ঘুম পাচ্ছে খুব …… সেই স্বপ্ন তুলি আর দেখবে না,,, আর পাঁচটা মেয়ের সম্মান তুলি বাঁচাতে পারলো ….. সবাই এবার কোনো মেয়ের সম্মান নষ্ট করার কথা ভাবার আগে , , ভাববে অনন্ত ……..

আজ দশমী …… তুলি বিসর্জনে ভয় পায় না …

নিজের প্রতি হওয়া যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত… আমাদের ভেতরে শক্তি রূপের দর্শন করা উচিত ,মাঝে মাঝে আমাদের নিজেদেরই ,, আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত ,, প্ৰয়োজনের অতিরিক্ত কোনও কিছুই মেনে নেওয়া কাম্য নয়,, যে কোনো ক্ষেত্রেই,,, কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ ,মনে যাদের অসুরের বাস ,, সব ক্ষেত্রেই উপস্থিত ……….তাদের শক্তিরূপের দর্শন করাতে হবে তাই মাঝে মধ্যেই ….

সৌজন্যে প্রতিলিপি

Related News

Also Read