Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। শাশুড়িমার যত্ন ।।

অঙ্কিতা ঘোষ

– শাশুড়িমা! ও শাশুড়িমা!

– বলো বৌমা!

– পিসিশাশুড়িমা ফোন করেছিলেন। আমাকে আপনার যত্ন করতে বলেছেন। পরে ফোন করে আবার খবর নেবেন বলেছেন।

– ওর কথা বাদ দাও তো।

– না শাশুড়িমা! আমি আপনার যত্ন করবই। আজ রান্না আমি করব, আপনি আরাম করবেন।

– না না বৌমা। তোমার সদ্য বিয়ে হয়েছে। রান্না আমিই করছি। তুমি আমার সাথে গল্প করো বরং।

– না শাশুড়িমা, আমি আপনার যত্ন করবই। রান্না আজ আমি করব।

– করবেই?

– করবই।

– তুমি তাইলে আগে ভাতটা বসিয়ে দাও, বৌমা।

– ভাত একবার করেছিলাম। শুকনো চাল হাড়িতে বসিয়ে অনেকক্ষণ খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করেছিলাম। শেষে পোড়া লেগে গেল। আজ আরেকবার চেষ্টা করি।

– এই বৌমা, ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও। শুধু পাতলা করে ডিমের ঝোল করো। ওটাই চুমুক দিয়ে স্যুপের মতো খেয়ে নেব।

– এক্ষুণি করে ফেলব। পাঁচফোড়ন দিয়ে কি নিদারুণ ডিমের ঝোল বানাই আমি!

– ছেড়ে দাও বৌমা। তুমি বরং দুধ আর চালে ফুটিয়ে পায়েস করে ফেলো।

– এই শাশুড়িমা, আপনাদের বাড়ি চিনির কৌটোর পাশে বেকিং সোডা থাকে না তো?! একবার বেকিং সোডা দিয়ে পায়েস করে ফেলেছিলাম।

– ছেড়ে দাও বৌমা। আমিই রান্না…

– না না। পিসিশাশুড়ি আবার ফোন করেই বলবেন, বৌমা হয়ে আমি আপনার যত্ন করি না। আজ রান্না আমিই করব!

– ওরে মা রে, আমার যত্ন লাগবে না। আমায় ছেড়ে দে রে।

– আমি আজ রান্না করবই। শাশুড়ির যত্ন আমি করবই। কি খাবেন বলুন?!

– একটু চা করো। চা আর বিস্কুট।

– এক্ষুনি যাচ্ছি। জানেন শাশুড়িমা, একবার তো আমি চা পাতার জায়গায় কালোজিরা দিয়ে চা বানাচ্ছিলাম। কিছুতেই রঙ্ আসে না চায়ের। তারপর সয়া সস্ মিশিয়ে চায়ের রঙ্ এনেছিলাম।

– বৌমা, থাক। চা থাক্।

– একি শাশুড়িমা! আপনি এত ঘামছেন কেন?! কি হল?! জল দেব? নরম্যাল জলের সাথে একটু ফ্রিজের ঠান্ডা জল মিশিয়ে আনি?

– তাই আনো, বৌমা!

– এই শাশুড়িমা, বলছি আপনাদের ফ্রিজে জলের বোতল আর ভিনিগারের বোতল পাশাপাশি থাকে না তো? আমি একবার পাশের বাড়ির কাকিমাকে ঠান্ডা জলের বদলে ভিনিগার মিশিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর দুদিন ধরে বাথরুমে গেছে আর এসেছে, সাথে আমায় চাড্ডি গালিও দিয়েছে। আপনাদের বাড়ি…

– উফ্ মা গো।

– খুব শরীর খারাপ করছে নাকি শাশুড়িমা? চিন্তা নেই। আমি আপনার যত্ন করবই।



সৌজন্যে – প্রতিলিপি

Related News

Also Read