Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

ভগবানপুরে সাধু-সমাবেশে ‘হামলা’:কাঠগড়ায় তৃণমূল 

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এ বার রণক্ষেত্র পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর। আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাধু-সন্ত সমাবেশে প্রবচন চলাকালীন হামলার অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আর্য সমাজের সূর্যানন্দ মহারাজকে লক্ষ্য করে চড়াও হয় একদল ‘দুষ্কৃতী’। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

শনিবার ভগবানপুর ১ ব্লকের গুড়গ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন আর্য সমাজের সূর্যানন্দ মহারাজ। উদ্যোক্তাদের দাবি, মহারাজের প্রবচন চলাকালীন আচমকাই সভায় ঢুকে পড়ে একদল যুবক। অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় বাধা দেওয়া হয় এবং মহারাজকে প্রাণে মারার চেষ্টা চলে। আয়োজক সংস্থার দাবি, জগন্নাথ মাইতি, প্রদ্যুৎ মাইতি ও মাধব মাইতি নামে তিন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী এই হামলার মূল পাণ্ডা।

বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডার অভিযোগ সরাসরি শাসকদলের দিকে। তিনি বলেন, “হিন্দু সম্মেলনে ঢুকে স্বামীজীর ওপরে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের হার্মাদরা হামলা চালিয়েছে। ওঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জয় শ্রীরাম বলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে নাম ধরে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মেদিনীপুর অচল করে দেওয়া হবে।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলার জেরে স্বামীজীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তাঁর প্রবল শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন না।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ময়দানে নেমেছে জেলা পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানান, “৩১ জানুয়ারি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মঞ্চে হামলার একটি অভিযোগ মিলেছে। মূল অভিযুক্ত জগন্নাথ মাইতিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।” বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ধৃতকে আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভগবানপুর জুড়ে তৈরি হয়েছে বারুদ-ঠাসা পরিস্থিতি। বিজেপি এই ঘটনাকে ‘হিন্দু সংস্কৃতির ওপর আঘাত’ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বা ‘স্থানীয় গোলমাল’ বলে দাবি করতে শুরু করেছে।

বাজেটের মরসুমে যখন দিল্লির রাজনীতি ফুটছে, তখন ভগবানপুরের এই ‘গেরুয়া’ সমাবেশে রক্তারক্তি কাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের একবার বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Related News

Also Read