Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

কাসাই নদীর বাঁধ ভেঙে পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট, তমলুক ব্লকের একাংশ বিধ্বংসী বন্যার কবলে

নিম্নচাপজনিত প্রবল বর্ষন ও কংসাবতী ব্যারেজ থেকে একসঙ্গে অত্যধিক পরিমাণে জল ছাড়ার কারণে পাঁশকুড়ায় কাসাই নদীর বাঁধ ভেঙে  পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট, তমলুক ব্লকের একাংশ বিধ্বংসী বন্যার কবলে। এছাড়া কোলাঘাট,পাঁশকুড়া ব্লকের অবশিষ্টাংশ ও শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের একাংশ প্রায় ১৫ দিন ধরে  জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। আবার নিম্নচাপের ভ্রুকুটি তৈরি হওয়ায় উপরোক্ত এলাকার হাজার হাজার বানভাসি ও জলবন্দী মানুষজন আতঙ্কিত। অতিরিক্ত বৃষ্টি বা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়লেই যে কোন সময় আবার বন্যা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
             এই পরিস্থিতিতে আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে জেলাশাসক ও সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবীগুলির মধ্যে অন্যতম হোল- ১) জরুরী ভিত্তিতে কাঁসাই নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশগুলি দ্রুত মেরামত করতে হবে।
২) কংসাবতী ব্যারেজ থেকে প্রতিদিন কিছু কিছু জল ছেড়ে যাতে একসঙ্গে বিশাল পরিমাণ জল ছাড়তে না হয়,সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 
৩) জলবন্দী এলাকার দ্রুত জলনিকাশীর বন্দোবস্ত করতে হবে। সোয়াদিঘি খালের অন্তত চাঠরা থেকে নোনাকুড়ি দূর্গা মন্ডপ পর্যন্ত ও দেহাটি খালের বরদাবাড় থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত অংশে খালের ভেতরে থাকা কচুরিপানা সহ নলগাছ প্রভৃতি জলনিকাশীতে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্ত রকম আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।
৪) টোপা ড্রেনেজ খাল দেহাটি খালের বরদাবাড়ে যেখানে মিশেছে সেখানে বেআইনি নির্মাণ থাকার কারণে সম্প্রতি খাল সংস্কারে সময় ওই অংশের যে ৩০০ মিটার খনন করা যায়নি, সেই অংশের বেআইনী নির্মাণগুলি সরানোর বন্দোবস্ত করতে হবে।
৫) যে সমস্ত নিকাশী খালে কচুরিপানা সহ আবর্জনা পরিস্কারের কাজ চলছে,দ্রুততার সাথে তা সম্পন্ন করতে হবে। এবং ওই কচুরিপানা একেবারে খালের বাঁধে তুলতে হবে। পরিস্কারের পর খালগুলিতে যাতে মাছ ধরার জাল/পাটা সহ আবর্জনা না ফেলা হয়, সেজন্য এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬) জলনিকাশী অবরুদ্ধ করে বেআইনী মাছের ভেড়ি /ইটভাটা / কাঠামো অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। 
               পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, সোয়াদিঘি ও দেহাটি খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কোলাঘাট-পাঁশকুড়া-শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের প্রায় শতাধিক মৌজা প্রায় ১৫ দিন ধরে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। জল দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে। অবিলম্বে খালগুলির ভেতরে থাকা জলনিকাশিতে বাধা সৃষ্টিকারী কচুরিপানা, নলগাছ সহ সমস্ত রকম আবর্জনা অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগীরা সড়ক অবরোধ সহ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

Related News

Also Read