পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দেউলিয়ায় জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনারোধে রাস্তার উপর বসা ফুলবাজার দেউলিয়ার অদূরে পানশিলায় সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন তিন বছর পূর্বে। সেইমত জেলা প্রশাসন পানশিলায় তৈরী করে নূতন করে একটি ফুলের বাজার। কিন্তু এখনো ওই বাজারটি চালুর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় নি।
ফলস্বরূপ জাতীয় সড়কের বাইপাস রাস্তাতেই বসছে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেউলিয়ার ফুলের বাজার। এছাড়াও জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল,দুর্ঘটনারোধে দেউলিয়ায় আন্ডারপাশ নির্মান করবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সেইমত কয়েক বছর পূর্বে জমি অধিগ্রহণ করে কাজ শুরু হয়েছিল। তৈরী হয়েছিল বাইপাস রাস্তা। কিন্তু তারপর কি কারনে সেই কাজ বন্ধ, তা কেউ জানে না।
এমতাবস্থায় অবিলম্বে দেউলিয়ায় আন্ডারপাশ নির্মাণের অবশিষ্টাংশ কাজ শেষ করা সহ পানশিলায় তৈরী নূতন ফুলবাজার চালু করার দাবীতে আজ “সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতি”র পক্ষ থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের দেউলিয়া ফুলবাজারটি ভোর তিনটে থেকে সড়কের পাশেই বসে। যে কোন সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। গত কয়েক বছর পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল কয়েকজন ফুলচাষী। সেজন্য আমাদের দাবী ছিল, বাজারে আন্ডারপাশ নির্মাণ করতে হবে এবং ফুলবাজারটি স্থানান্তরিত করতে হবে। সেইমত জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করলেও আজো পানশিলার ফুলবাজারটি চালু করা হয় নি। অন্যদিকে আন্ডারপাশ নির্মাণের কাজ চলতে চলতে বর্তমানে কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। ঠিকাদার উধাও হয়ে গিয়েছে। সেজন্য অতি সত্বর বাজারটি চালু সহ আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ শেষ করে তা চালুর দাবীতে জেলার নূতন জেলা শাসককে আজ স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত লক্ষীপূজার দিন দেউলিয়া ফুলবাজারে আসার জন্য ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে পিক আপ ভ্যানে ফুল বোঝাই করার সময় পেছন থেকে আসা একটি সিমেন্টের গাড়ির ধাক্কায় ৫ জন ফুলচাষী সহ গাড়ীর চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই পরিপ্রেক্ষিতে ভোর রাতে গাড়ির চালকেরা যাতে ঘুমিয়ে না পড়ে বা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী না চালায় সে ব্যাপারে অতিরিক্ত নজরদারীর দাবী জানায় ফুলচাষী সমিতি।







