মহাসমারোহে শ্রী শ্রী রটন্তী কালি আরাধনা, কৃষি মেলা ও প্রদর্শনী এবং শ্রী শ্রী লালজি ঠাকুরের পূজার্চনা। কাঁথি ১ ব্লকের মাজিলাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাজিলপুর অনুন্নত সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ৪৭ তম বর্ষের রটন্তী কালী মায়ের আরাধনার শুভ সূচনা হয় রবিবার সন্ধ্যায়।বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এলাকার শ্রমজীবী মানুষের হাত ধরে উদ্বোধন হয় পূজা মন্ডপ।
ফুলের মালা কেটে পূজা মন্ডপের উদ্বোধন করেন বিমল নন্দী, কার্তিক মন্ডল,বিশ্বজিৎ নন্দী, দেবাশীষ রায় প্রমুখ। মঙ্গলদীপ জেলে মায়ের চরণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে পূজা মন্ডপের শুভ উদ্বোধন হয়। রাতভর চলে পূজা অর্চনা অঞ্জলি দান ইত্যাদি। সোমবার উদ্বোধন হয় কৃষি মেলা ও প্রদর্শনী এবং পিঠেপুলি উৎসব। বিকালে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের অংকন, কুইজ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। কৃষি মেলা উদ্বোধনের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এলাকার রাজ্যস্তরিয় সফল ছাত্র-ছাত্রীদের, সংগীত ক্ষেত্রে দুই সংগীতশিল্পী, সফল কৃষক ও বিশিষ্টজনদের সংবর্ধিত করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাঁথি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অর্চনা পয়ড়্যা,সহ-সভাপতি উমেস প্রধান, কর্মাধ্যক্ষ নিলেশ মন্ডল, বিমল মান্না, পঞ্চায়েত প্রধান প্রদীপ কুমার কুন্ডু, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও প্রাক্তন সেনাকর্মী রঞ্জিত বর, দিলীপ ভূঁইয়া, সর্বাংশু বেরা,প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই কৃষি মেলায় জৈব পদ্ধতিতে কৃষিকাজ এ উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিষয়ক আলোচনা হয়।
মাজিলাপুর অনুন্নত সমাজ উন্নয়ন সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সঞ্জীত শীট বলেন জৈব প্রক্রিয়ায় এলাকায় প্রায় বারোশো কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন। শুধু তাই নয় পানচাষী এবং বাগান চাষীদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন। এলাকায় নার্সারি চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে পেরেছেন। এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক নার্সারি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন ৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেড়শ জনকে এই কাজ করাতে পেরে খুশি। শুধু তাই নয় মৎস্য চাষীদেরও জৈব পদ্ধতিতে মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন।
মঙ্গলবার মহাসমার হয়ে শ্রী শ্রী লালজী ঠাকুরের ঘটোত্তোলন ও অষ্টপ্রহর নাম যজ্ঞের সূচনা হয়েছে। বুধবার অন্য মহোৎসবের মধ্য দিয়ে এই গ্রামীণ উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সংস্থার সভাপতি শ্রীকৃষ্ণ মন্ডল ও সম্পাদক পবিত্র পন্ডা ৪৭ তম রটন্তি কালীপুজো ও ১৫ তম কৃষি মেলা ও প্রদর্শনী সহ এই গ্রামীণ উৎসব সকলের সহযোগিতায় সফল হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষজনকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। আশা প্রকাশ করেছেন আগামী দিনেও যাতে সকলে এই অনুষ্ঠানকে চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।





