শ্রদ্ধা এবং যথাযথ মর্যাদায় কাঁথি ও এগরা মহকুমা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে রবিবার ১৪১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন হলো। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন কাঁথির বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা তথাপ্রাক্তন বিধায় শৈলজা কুমার দাস।কংগ্রেসের ইতিহাস বর্ণনা করেন মহকুমার কংগ্রেসের সভাপতি গঙ্গারাম মিশ্র।

উপস্থিত ছিলেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শম্ভু ভূঁইয়া,দীপক দাস, প্রলয় কুমার দাস প্রমুখ। একইভাবে এগরা মহকুমা কংগ্রেস কার্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন করেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি মানস করমহাপাত্র
উপস্থিত ছিলেন জেলা অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সাধনকান্তি উত্থাসনী, মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আল্পনা পট্টনায়েক, এগরা শহর কংগ্রেস সভাপতি অশোক মহাপাত্র, এগরা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্মল চন্দ্র শীট, আই এন টি ইউ সি নেতা কালিপদ শীট কংগ্রেস নেতা চন্দন পন্ডা প্রমুখ।
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ত্যাগ এবং স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষকে গড়ে তুলতে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে মানসবাবু বলেন, ভারতবর্ষের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি, বরং এক নতুন মাত্রায় জরুরি হয়ে উঠেছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যখন পোলারাইজেশন রাজনীতিকে হাতিয়ার করে দেশের বৈচিত্র্যকে এক ছাঁচে ঢালতে চাইছে, তখন কংগ্রেসের সেই ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর আদর্শ আজও এক বড় রক্ষাকবচ।
আজকের শাসকরা যখন ইতিহাসের পাতা বদলে দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পি আর স্টান্ট করতে ব্যস্ত, তখন কংগ্রেসের উদারপন্থী গণতান্ত্রিক কাঠামোর অভাব সাধারণ মানুষ পরতে পরতে অনুভব করছে। শাসকদলের উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং বিদ্বেষ মূলক রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের দাবি কংগ্রেসই জোরালোভাবে তুলছে।
যখন প্রশ্ন ওঠে গেছে ব্যক্তিস্বাধীনতা কিংবা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে, তখন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শাসকরা বিরোধী শূন্য ভারতের যে স্বপ্ন দেখেন, তা গণতন্ত্রের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা আজ সাধারণ মানুষের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাই একতরফা শাসন আর দম্ভের রাজত্বে সুস্থ ভারসাম্যের জন্য আজও কংগ্রেস-আদর্শের প্রয়োজন অনস্বীকার্য।





